এলাকা বাসীরা আনন্দিত জয়পুরের জাহাজপুর হাই স্কুল উন্নীতকরণের জন্য


শুক্রবার,১৩/০৩/২০১৫
331

সঞ্চিতা মুখোপাধ্যায়, পুরুলিয়াঃ জয়পুরের মেয়েরা অনেক লড়াই করে যেমন বাল্য-বিবাহ রোধ, পাচার হয়ে যাওয়া ইত্যাদি প্রতিরোধ করে জীবনে প্রতিষ্ঠা হওয়ার জন্য শিক্ষাটাকে সর্বপ্রথম গ্রহণ করার জন্য আন্তরিক ভাবে চাইছিলেন এখানে নবম শ্রেণী থেকে মাধ্যমিক করা হোক। সেই কারণে আজকে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করলেন স্বনিযুক্তি বিভাগের মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতো ও প্রমুখ। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন বিদ্যালয়টিকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত করে দেব। পুরুলিয়া জেলার প্রত্যন্ত এই অঞ্চলটি মেয়েরা অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করে। প্রশাসনিক উদাসীনতার জন্য প্রায় সাত বছর আগে কোনও স্কুল ছিল না। এলাকার বাসিন্দারা জমি দান করেন যাতে ওনাদের মেয়েরা বাড়ির কাছে একটা স্কুল পায় ভবিষ্যত গড়তে পারে লেখাপড়া করে। এখানকার আদিবাসী সম্প্রদায় কাছে পড়াশোনা ছিল বাতুলতা। গ্রামবাসীরা বেশির ভাগ নিরক্ষর তাই অবিভাবকরা তাঁদের দূরদর্শিতা এবং পরবর্তী প্রজনমের কাছে শিক্ষা লাভের সুযোগ করে দিতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন অভিভাবকরা। স্কুলের পাঁচ শিক্ষক-এর আপ্রাণ চেষ্টায় আজকে সেই দিনটি এলাকার মানুষেরা কাছে ইতিহাস হয়ে রইল। জানা গিয়েছে বর্তমানে এই স্কুলে ১৭৪ জন পড়ুয়ার মধ্যে ১০২ জন ছাত্রী। এই গ্রামের অশোক কুমার, দিলীপ মাহাতো ও নিতাই মাঝি জানান, এতদিন আপার প্রাইমারি হওয়ার জন্য নবম শ্রেণী থেকে পড়ার জন্য প্রায় ছয় কিলোমিটার হেঁটে গিয়ে পড়াশোনা করা সম্ভব ছিল না, সেই কারণে স্কুল ছুট সংখ্যা প্রতি বছর বাড়তে থাকে। এক নবম শ্রেণীর ছাত্রী সান্ত্বনা মাহাতো বলে, আগে দিদিরা লেখা পড়া ভাল হয়েও আর পড়াশোনা করতে পারতো না। বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রবীন্দ্রনাথ বিশাই এবং শিক্ষক জ্যোতিময় দাস বলেন, গ্রামের মানুষরা নিজেদের জমি দিয়েছিলেন যাতে এখানে মাধ্যমিক পর্যন্ত করা হোক কারণ অষ্টম শ্রেণীর পর মেয়েদের পড়া বন্ধ হয়ে যাবে এমনকি কান্নাকাটি করতে শুরু করে দিত। অভিভাবকদের প্রচণ্ড চাপে শেষ পর্যন্ত শিক্ষা দফতর অনুমোদন দেন। আশা করা যায় এইখান থেকে অনেক ভাল ছাত্র-ছাত্রী বেরিয়ে আসবে ভবিষ্যতে।

Loading...

চাক‌রির খবর

ভ্রমণ

হেঁসেল

    জানা অজানা

    সাহিত্য / কবিতা

    সম্পাদকীয়


    ফেসবুক আপডেট