অপুষ্টির হার কমছে সারা বিশ্বে, মনে করা হচ্ছে


বৃহস্পতিবার,১০/০৯/২০১৫
322

 খবরইন্ডিয়াঅনলাইনঃ    প্রথম বিশ্বখাদ্য সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের তত্কালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বলেছিলেন, আগামী ১০ বছরে কোনো শিশু ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে যাবে না। কিন্তু তিনি বাস্তবতা থেকে অনেক দূরেই ছিলেন। গত ১৯ নভেম্বর ইতালির রোমে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে বলা হয়, পাঁচ বছরের কম বয়সী ১৬ কোটি ২০ লাখ শিশু এখনো পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। ১৯৯০ সালের পর অপুষ্টিতে ভোগা জনসংখ্যার পরিমাণ ২০ শতাংশ কমে বর্তমানে ৮০ কোটিতে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু বিপরীতে ওই একই সময়ে বৈশ্বিক প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল বার্ষিক ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। এছাড়া ১ দশমিক ২৫ ডলারের কম আয়কারী জনসংখ্যার পরিমাণও উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমে এসেছে। দেখা যাচ্ছে, বিশ্ব অর্থনীতি অগ্রসর হলেও দারিদ্র্যের তুলনায় অর্ধেক কমেছে অপুষ্টির (সক্রিয় জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনের চেয়ে কম ক্যালরি গ্রহণ করা) হার। অপুষ্টি না হয় কিছুটা কমেছে। কিন্তু ভিটামিন, খনিজ উপাদন ও প্রোটিনের মতো মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের ঘাটতি মোটেও কমেনি। স্বাস্থ্যকর জীবনের জন্য এর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে এখন সবাই অবগত। কিন্তু বিশ্বজুড়ে ২০০ কোটি মানুষ এখনো কোনো না কোনো মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট-স্বল্পতায় ভুগছে। অন্যদিকে আরো খারাপ অবস্থায় চলে যাচ্ছে স্থূলতা। স্থূলতা এখন শুধু উন্নত বিশ্বের নয়, মধ্যম আয়ের দেশণ্ডলোর জন্যও একটি বড় সমস্যা। ২০০০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে অতি ওজনের শিশুদের সংখ্যা ৩ কোটি ২০ লাখ থেকে ৪ কোটি ২০ লাখে উন্নীত হয়েছে। এদের দুই-তৃতীয়াংশই নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশের। বলা হয়ে থাকে, একটি দরিদ্র দেশ খাদ্য সমস্যা মেটাতে পারলে স্থূলতা আক্রমণ করার আগে দেশটি কয়েক দিন রক্ষা পায়। কিন্তু আদতে তা দেখা যায়নি। অপুষ্টি কমার সমান্তরালে বেড়েছে লোকজনের অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণের হার। অর্থাত্ অনেক উদীয়মান দেশ এখন অপুষ্টি, মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের স্বল্পতা ও স্থূলতায় আক্রান্ত। নভেম্বরের শুরুতে ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট তাদের প্রথম গ্লোবাল নিউট্রিশন রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়, চীন ও কোরিয়া বাদে প্রায় প্রতিটি দেশই শিশুদের অপুষ্টি, নারীদের মাঝে রক্তশূন্যতা ও প্রাপ্তবয়স্কদের মাঝে অতিরিক্ত ওজনের মতো সমস্যায় ভুগছে। অন্যদিকে ২০১৩ সালে মেডিকেল জার্নাল ল্যানসেট তাদের এক গবেষণায় জানায়, পাঁচ বছরের নিচের শিশুদের ৪৫ শতাংশ মারা যায় অপুষ্টির কারণে। ওদিকে ২০১০ সালে স্থূলতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষতি হয়েছিল মাথাপিছু প্রায় ২ হাজার ৫০০ ডলার। কিন্তু দারিদ্র্য কমলেও সমসাময়িক সময়ে অপুষ্টির আক্রমণ কেন কমানো গেল না? এর অন্যতম কারণ হতে পারে জনগণের অভ্যাস। কোনো গ্রামে অপুষ্টি ব্যাপক মাত্রায় বেড়ে গেলে পরবর্তীতে লোকজন এটিকে স্বাভাবিক হিসেবেই ধরে নেয় এবং পুষ্টিকর খাদ্যের বদলে টিভি-ফ্রিজের দিকেই বেশি খরচ করতে থাকে। অন্যদিকে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের কারণে নগরের অধিবাসীরা প্রায়ই উচ্চ ক্যালরির খাবার খেয়ে থাকেন, যা তাদের স্থূলতা বাড়ায়। শৈশব ক্ষুধার্ত অবস্থায় কাটালে শরীর আরো ফ্যাট বা চর্বি ধারণ করার জন্য প্রশিক্ষিত হয়ে যায়। যে কারণে খাদ্যস্বল্পতার ক্ষেত্রে একসময় বিশ্বের শীর্ষ পর্যায়ে থাকা মেক্সিকো মাত্র এক প্রজন্মেই স্থূলতায় বিশ্বের শীর্ষ কাতারে চলে এসেছে। শিক্ষা বা জনকল্যাণমূলক নীতি গ্রহণ করার ক্ষেত্রে খুব কম দেশই অপুষ্টির বিষয়টি মাথায় রাখে। কিন্তু যারা করে তাদের হাতে উল্লেখযোগ্য ফলাফল এসেছে। ভারতের মহারাষ্ট্রে পাঁচ বছরের নিচে অপুষ্টির হার ২০০৫-০৬ সময়ের ৩৭ শতাংশ থেকে কমে ২০১২ সালে ২৪তে নেমে এসেছে। সে সময় রাজ্য সরকারের নেয়া পদক্ষেপের কারণে এখন বেশ বড় একটি পরিবর্তনের ছবি তৈরি হচ্ছে; অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও দারিদ্র্য বিমোচন এখন ভারতীয় গড়ের তুলনায় কিছুটা এগিয়েছে, দ্বিণ্ডণ হয়েছে পুষ্টি সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যয় এবং উল্লেখযোগ্যহারে বেড়েছে নারী শিক্ষার হার। রোমের সম্মেলনে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, পাঁচ বছরের নিচে শিশুদের অপুষ্টিতে ভোগার হার ২০০৫-০৬ সময়ের ৪৮ শতাংশ থেকে কমে ২০১৪ সালে ৩৯ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থাত্ এখনো ১ কোটি ৩০ লাখ শিশু পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার খেতে পায় না।

Loading...

চাক‌রির খবর

ভ্রমণ

হেঁসেল

    জানা অজানা

    সাহিত্য / কবিতা

    সম্পাদকীয়


    ফেসবুক আপডেট