মমতাকে হেপাজতে নিলে রাজ্য জুড়ে হিংসার রাজনীতি যথেষ্ট কমবে, বললেন মহম্মদ সেলিম


শুক্রবার,২০/১১/২০১৫
327

বিকাশ সাহাঃ    নারায়ণগড়ে জাঠা মিছিল আটকাতে রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্রের ওপর আক্রমণের তীব্র নিন্দা করে উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ শহরে ধীক্কার মিছিলে হাঁটলেন সিপিআইএমের পলিটব্যুরোর সদস্য তথা রায়গঞ্জের সাংসদ মহম্মদ সেলিম, শ্রীকুমার মুখার্জী, অপূর্ব পাল, দিলীপ নারায়ণ ঘোষ সহ প্রমুখ।
নারায়ণগড়ে জাঠা মিছিল আটকাতে রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্রের ওপর আক্রমণের তীব্র নিন্দা করলেন মহম্মদ সেলিম। উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জে অবস্থিত সিপিআইএমের জেলা পার্টি অফিসে সাংবাদিক বৈঠকে সেলিম সাহেব বলেন, তৃনমূল নেতা রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রীতো বলেছিলেন, চিটফান্ডে প্রতারিতদের টাকা ফেরত , চিটফান্ড কাণ্ডের সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে আসল লোকটাকে হেপাজতে নিতে হবে। মুকুল তৃনমূল থেকে সরে গেছে, মদন জেলে, গুণ্ডামি একটু হলেও কম হচ্ছে। এবার মমতাকে হেপাজতে নিলে রাজ্য জুড়ে হিংসার রাজনীতি যথেষ্ট কমবে। নিরন্ন মানুষের মিছিলে আর্তনাদ কান্না কাঁদলে, তাঁদের তাচ্ছিল করেন মুখ্যমন্ত্রী। ধর্ষণ কাণ্ডে মৌসুমি, টুম্পারা প্রতিবাদ করলে তাঁদেরকে খুনি আখ্যা দেয় মুখ্যমন্ত্রী । সারদা সহ চিটফান্ডের তোলাবাজির সঙ্গে যুক্তদের আড়াল করেন মমতা ব্যানার্জী। বুঝতে নিশ্চয় অসুবিধা হয় না, আসল লোকটা কে, তাঁকে হেপাজতে নিলে রাজ্যের একটু হলেও ভাল পরিস্থিতি আসবে বলে সাংবাদিকদের বলেন সেলিম সাহেব। বিহারে মমতা ব্যানার্জী মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারের আহ্বানে গেছেন সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উনি যেতে পারেন আপত্তি নেই, উনার মুখ থেকে জোট রাজনীতি যেন একবারের জন্যেও উচ্চারিত না হয়। ২০১১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেস সহ কয়েকটা পার্টিকে জোট করে ভোট করল। এখন তো একা। সুযোগ সন্ধানীদের মানুষ চিনতে ভুল করে না। ভোটের জন্য জোট নয়, সংগ্রামের জন্য জোট, এই বার্তাতো স্বাধীনতার পর থেকে সিপিআইএম নিয়ে এসেছে। এক দলীয় শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই আন্দোলনের সূচনা বামফ্রন্টকে দিয়ে। ভোট রাজনীতি বামপন্থীদের কাছে নিছক তামাশা নয়। আমরা কোনও চমক দিতে চাইনা। ভোট রাজনৈতিক সংগ্রামের এক ধাপ। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিরন্ন, গরীব মানুষের জন্যে ৩৬৫ দিন লড়াই করেন বামপন্থী কর্মীরা। দেশের ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির উপর দাঁড়িয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত সাম্প্রদায়িক শক্তির মোদী ও রাজ্যের ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মমতা ব্যানার্জীর সরকারকে সরাতেই হবে। মানুষের জোট ১১৩ টি সংগঠনের ডাকে লড়াই আন্দোলনকে স্তব্ধ করে দিতেই নারায়ণগড়ে জাঠা মিছিলের উপর হামলা বলে সেলিম সাহেব মন্তব্য করেন। আসলে সপ্তাহব্যাপী মানুষের জাঠা মিছিল দেখায় ভয় পেয়েছে তৃনমূল কংগ্রেস। রাজ্যের সমস্ত বুথের ভোটারদের কাছে, কর্মীদের কাছে যাচ্ছে এই লালঝাণ্ডার জাঠা। রাজ্যজুড়ে অস্থির পরিস্থিতির জন্য শাসক তৃনমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে মানুষকে বোঝাতে হবে, শুধু তাই নয়, যেতে হবে অনেক পথ।
উত্তর দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ১৯৫০ টা বুথেই মিছিল হচ্ছে। চা শ্রমিকদের স্বার্থে, বিড়ী শ্রমিকদের স্বার্থে, শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, আদিবাসী, সংখ্যালঘু, পিছিয়ে পড়া মানুষের স্বার্থে, শ্রমিক, কর্মচারী, অসংগঠিত শ্রমিক কর্মচারীদের স্বার্থ রক্ষার জাঠা মিছিল শেষে ৩০ শে নভেম্বর পার্টির রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র, পার্টি নেতা অশোক ভট্টাচার্য, মানব মুখার্জীর উপস্থিতিতে চোপড়াতে বিশাল সমাবেশের মধ্য দিয়ে এই জাঠা মিছিল কর্মসূচী সমাপ্তি হবে বলে সাংবাদিক বৈঠকে জানালেন জেলা বামফ্রন্ট নেতা তথা সিপিআইএমের উত্তর দিনাজপুর জেলা সম্পাদক অপূর্ব পাল। এছাড়াও তিনি বলেন, সাবেক পশ্চিম দিনাজপুর জেলার কমিউনিস্ট আন্দোলনের লড়াকু নেতা, বিধায়ক তথা কমিউনিস্ট আন্দোলনের পুরোধা কমরেড বাচ্চা মুন্সীর জন্ম শতবর্ষের সূচনা হবে চোপড়া সমাবেশ থেকেই।DSCN8170

Loading...

চাক‌রির খবর

ভ্রমণ

হেঁসেল

    জানা অজানা

    সাহিত্য / কবিতা

    সম্পাদকীয়


    ফেসবুক আপডেট