কাজের ফাঁকে


রবিবার,০১/০৪/২০১৮

বাংলা এক্সপ্রেসঃ
শনি, রবির সঙ্গে একটা দিন জুড়তে পারলেই বাঙালি ছুটে যায় দীঘা, পুরী বা দার্জিলিং ৷ কিন্তু সেই অভ্যেসটা পালটাতে চাইলে এক থেকে দু’দিনের মধ্যে ঘুরে আসা যেতে পারে ৷ দক্ষিণ দিনাজপুরের বাণগড় ৷
বাণ নামে এক রাজা দীর্ঘদিন আগে তাঁর রাজত্ব গড়ে তুলেছিলেন ৷ নাম ছিল বাণগড় ৷ বাণ রাজার মেয়ে উষার সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণের পৌত্র অনিরুদ্ধের সম্পর্ক ছিল ৷ কিন্তু রাক্ষস বংশের রাজা বাণ তা মানতে পারেননি ৷ এরপরই নিজের ভালোবাসার মানুষটিকে হরণ করে নিয়ে যায় যাদব বংশের এই উত্তরসূরি ৷ যে পথ ধরে উষাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সে পথ আজও পরিচিত উষাহরণ রোড নামে ৷ রাজকুমারীকে অপহরণের শাস্তিস্বরূপ অনিরুদ্ধের বুকে চাপিয়ে দেওয়া হয় একটি বিশাল পাথর ৷ বাণগড় চত্বরে যার দেখা মেলে আজও ৷ উষারঅন্যত্র বিয়ে দেওয়া হয় ৷ যে ঘটনার স্মৃতি আগলে আজও দাঁড়িয়ে আছে চারটি স্তম্ভ ৷ এই স্তম্ভগুলোকে উষার বিয়ের মণ্ডপ বলে অনেকে ব্যাখ্যা করেন ৷ বলা হয়, এই থামগুলোকে দু’হাতে জড়িয়ে কোনও মনস্কামনা করলে অচিরেই তা পূরণ হয় ৷
বাণগড়ের বুক চিরে ইতিহাস খোঁজার চেষ্টা হয়েছে বারবার৷ আর সেখান থেকে উঠে এসেছে পাল, সেন, প্রাক-মৌর্য বহু সামগ্রী ৷ উদ্ধার হয়েছে লোটাস টেম্পলের আদলে তৈরি এক মন্দির ৷ সন্ধান মিলেছে মকরমুখী এক নালার ৷ যা সেই সময়ের নগর সভ্যতার এক অনন্য নিদর্শন ৷ গঙ্গারামপুরেই রয়েছে কালদিঘি, ধলদিঘি ৷ মাটির ও জলের রঙের তারতম্যের জন্যই মূলত এই নামকরণ ৷ সে সময় বাণগড় থেকে একটি সুড়ঙ্গ খোঁড়া হয়েছিল ধলদিঘি পর্যন্ত ৷ যে সুড়ঙ্গপথ বেয়ে রাজবাড়ির বৌ-ঝিরা নাইতে নামত ধলদিঘির জলে ৷ সময় পেলে দেখে আসতে পারেন সেগুলোও ৷ আজ সেই রাজা নেই, নেই সেই রাজত্ব ৷ তবে নিজের অহংকারের উপস্থিতি নিয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে বাণগড় ৷
কীভাবে যাবেন –
বালুরঘাটগামী যে কোনও ট্রেনে চেপে গঙ্গারামপুর স্টেশনে নামতে হবে ৷ স্টেশন থেকে রিকশ বা অটোতে যেতে হবে বাণগড় ৷
কোথায় থাকবেন –
গঙ্গারামপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি লজ আছে ৷ রাতটা সেখানেই কাটিয়ে দিতে পারেন ৷

চাক‌রির খবর

ভ্রমণ

হেঁসেল

জানা অজানা

সাহিত্য / কবিতা

সম্পাদকীয়


ফেসবুক আপডেট