ভাষা ও চেতনা সমিতির উদ্যোগে নববর্ষ বরণ উৎসবে উদার আকাশের গ্রন্থ-প্রকাশ


রবিবার,১৫/০৪/২০১৮
3535

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: বাংলা নববর্ষকে স্বাগত জানিয়ে ২০ বছর ধরে “ভাষা ও চেতনা সমিতি” আয়োজন করছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আকাদেমির সামনে দুদিন ব্যাপী নববর্ষ বরণ উৎসব পালিত হল। ২০ বছর উপলক্ষে এবার অনুষ্ঠান দুদিনের। ৩০ চৈত্র শনিবার বিকেল ৫ টার সময় শুরু হয়েছিল উৎসব, চলল রাত আটটা পর্যন্ত।
বাংলাদেশের প্রখ্যাত শিল্পী তাপস দত্ত সংগীত পরিবেশন করলেন, আর চলল লোকসঙ্গীত, বাজল সরোদ ও সেতার।
রবিবার সকালে শুরু হল নববর্ষের আনন্দ ও প্রতিজ্ঞার উৎসব। এদিন পত্রিকা ও গ্রন্থ প্রকাশ অনুষ্ঠানও ছিল। কবি ও গল্পকার সোহিনী রায়-এর রচিত “প্রথম খসড়া” গ্রন্থটি আনুষ্ঠানিক উদ্ভোধন করলেন বিশিষ্ট অতিথিরা। “প্রথম খসড়া” গ্রন্থটি ‘উদার আকাশ’ প্রকাশন প্রকাশ করেছে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ উপ হাইকমিশনার তৌফিক হাসান, কবি প্রবীর ঘোষ রায়, জিয়াদ আলী, সুব্রতা ঘোষ রায়, সোমালী পাণ্ডা, কলকাতার প্রাক্তন মেয়র বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য, ইমানুল হক, কবি সোহিনী রায় বললেন, “পহেলা বৈশাখে পহেলা বই প্রকাশ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই দিনের স্বপ্ন লালন করেছি অনেকদিন থেকেই তবে এত তাড়াতাড়ি যে তা পূরণের দোরগোড়ায় এসে পৌঁছবে তার সত্যি কোনো আভাস ছিল না। ছোটোবেলা থেকেই লেখালিখি শুরু করি। ৯ বছর বয়সে প্রথম কবিতা প্রকাশ হয় ছোটোদের পত্রিকায়। তারপর থেকে লেখালিখিটা অভ্যেসে পরিণত হয়। এখন যেমন প্রায় সবাই লিখতে ভালোবাসে বা লিখতে পারে, আমিও তাদের অন্যথা নই। তাই বোধহয় ছাপার অক্ষরে নিজের লেখাগুলো দেখার আনন্দটা অন্যরকম এবং অদ্বিতীয়। ‘উদার আকাশ’ আমার এই ‘প্রথম খসড়া’ বইটির প্রকাশক। উদার আকাশ পত্রিকা ও প্রকাশনের সম্পাদক ফারুক আহমেদকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই। আশা করি পাঠকের ভালো লাগবে আমার গল্প-কবিতার সংকলন। নতুন বছর সকলের ভালো কাটুক।”

নববর্ষ পালন উৎসবে এই প্রথম আদিবাসী সম্প্রদায়ের মাহালি নৃত্য দেখল কলকাতার মানুষ।
বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখকে স্বাগত জানাতে রবিবার ১৫ এপ্রিল “ভাষা ও চেতনা সমিতি”র উদ্যোগে আকাদেমির সামনে জমে উঠল মহা আয়োজন।

“ভাষা ও চেতনা সমিতি”র উদ্যোগে নববর্ষ উৎসব পালন হচ্ছে গত ১৯ বছর ধরে আকাদেমির সামনে।
টানা ১৩ ঘন্টা চলল নাটক, কবিতা, গান, নাচ ও শ্রুতিনাটক।

প্রখর গ্রীষ্ম উপেক্ষা করে এই রকম অনুষ্ঠান পৃথিবীর আর কোথাও হয় না বলছিলেন, “ভাষা ও চেতনা সমিতি”র কর্ণধার ইমানুল হক। তিনি আরও বলেন “এর সঙ্গে ছিল পান্তাভাত, শুঁটকি, আমপোড়া শরবত, মাছভাত আর আলুপোস্ত।

আসাম বাংলাদেশ ত্রিপুরা থেকে আসেছিল শিল্পীরা। এবারও বহু শিল্পী কবিতাপাঠ, সংগীত পরিবেশন চলল সারাদিন।

এই অনুষ্ঠানের বিশেষত্ব নামী শিল্পীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিল প্রতিভাবান অনামীরাও। নির্ধারিত শিল্পীর পাশাপাশি সুযোগ থাকে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের। এবারে বিশতম বছর। পার্ক স্ট্রিট জাদুঘরের পাশে সরকারি কারু ও চারুকলা মহাবিদ্যালয় থেকে শুরু হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। যার নাম বৈশাখী যাত্রা। শঙ্খ ঘোষ নামকরণ করেন এই শোভাযাত্রার। নিজে অংশ নিয়েছেন ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত। নানা ধরনের মুখোশের পাশাপাশি থাকে চলমান নৃত্য।
রায়বেঁশে, মাহালি, রবীন্দ্র ও লোকনৃত্য দেখা গেল এই শোভাযাত্রায় আর চলল মূকাভিনয়।

বর্ধমান থেকে এসেছিল স্পন্দন গোষ্ঠীর ২৬ জন শিল্পী। আর ছিল রিদমের শিশু ও কিশোরীরা। নৃত্যবিভঙ্গে মুখরিত হল শোভাযাত্রা।

এরপর সকাল নটায় শুভ উদ্বোধন হল আকাদেমির সামনে ছাতিমতলায়। তারপর চলল দিনভর অনুষ্ঠান।”

চাক‌রির খবর

ভ্রমণ

হেঁসেল

জানা অজানা

সাহিত্য / কবিতা

সম্পাদকীয়


ফেসবুক আপডেট