70 বছরের দুঃখী বর্মনের জীবনের দুঃখের তকমা ঘুচিয়ে আলোর প্রদীপ জ্বালিয়েছে সাক্ষরতা কেন্দ্র


বুধবার,০৯/০৫/২০১৮
468

পিয়া গুপ্তা---

কারো বয়স ৭০ পেরিয়েছে ,কারো চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ বছরের মধ্যে বা তারও বেশী।এই বয়সেও তারা হাতে তুলে নিয়েছেন বই খাতা।নাতি নাতনিদের সাথে যাচ্ছেন স্কুলে ।শিখছেন অক্ষর জ্ঞান । লেখছেন অ,আ,ক,খ ।ঘটনাটি উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ এর প্রত্যন্ত একটি গ্রামের যেখানে ভারত সরকারের উদ্যোগে গড়ে উঠেছে সর্বশিক্ষা কেন্দ্র ।সেখানে দূর দূরান্ত থেকে আসা বয়স্করা মনে করেন শেখার কোন বয়স হয়না ।আর এই বিষয় টি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় মানুষ থেকে প্রশাসনের কর্তারা । জীবনের পরন্ত বেলায় এসে জীবনের শেষ ইচ্ছা টুকু পূরণ করে নিজের দুঃখী জীবনের তকমা ঘুচিয়ে দিলেন ৭০ বছরের দুঃখী বর্মন ।

তার বয়স তার কাছে বাঁধা হয়ে দাডাই নি।তার ইচ্ছাশক্তি কে চালিত করে আর মনের জোরকে পাথেয় করে সবার সামনে আজ দৃষ্টান্ত রাখলেন অশিথীপর দুঃখী।আজ গত দুই বছর ধরে ভারত সরকারের উদ্যোগে গ্রামের সাক্ষরতা স্কুলে নিয়মিত বগলে খাতা বই নিয়ে গিয়ে নিজের নাম লেখা শেখাটা ষোলোআনা বুঝে নিলেন দুঃখী।আজ তাই ভীষণ আনন্দে তাকে বলতে শোনা গেল অ,আ,ক,খ । জীবনের শেষ প্রান্তে এসে শেষ ইচ্ছা টুকু পূরণ হলো। ৭০ বছর বয়স্ক এই দুঃখী বর্মন জানালেন ছোটো বেলায় তার পড়াশুনা করার ইচ্ছা ছিল কিন্তু বাড়ির অভাব অনটনের জন্য তার আর লেখাপড়া করা হয়ে ওঠেনি।ছোটো বেলা থেকেই দুটো পয়সার জন্য তিনি মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করেছেন।তিনি বলেন ছোটো বেলায় যখন সে নিজের বাড়ির সামনে দাড়িয়ে থাকতেন তখন দেখতে পারতেন কোলে বই দাবিয়ে তার বয়সের ছেলেমেয়েরা পাঠশালা যাচ্ছে লেখা পড়া শিখতে। কিন্তু সেই সময় চাপা কান্না ছাড়া তার কিছুই ছিল না। বাড়ির আর্থিক পরিস্থিতির চাপে তার আর পড়াশোনা শেখা হলো না।

ছোটো বেলায় মানুষের বাড়ি কাজ করতে করতেই তার সকল স্বপ্ন শেষ হয়ে গিয়েছিল ।তবে পড়াশোনা করার যে প্রবল ইচ্ছা টা বড়ো হওয়ার পাশাপাশি কোথাও যেন তার বুকের এককোণে রযে যায় ।নিজের নাম টা না লেখতে পারার যে দুঃখ , তা জীবনের প্রতি পদে পদে বযে বেড়াতেন দুঃখী বর্মন । নিরক্ষরতা সাথে তার জীবনের ৬৬ টি বছর কেটে যাওয়ার পর ভারত সরকারের সাক্ষরতা মিশন যেন তাকে জীবনে নতুন ভাবে বাঁচতে শেখায় ।তার মনের এককোণে ছোটো বেলায় পড়াশুনো করার যে প্রবল ইচ্ছা শক্তি তাকে আরেক বার জাগিয়ে তোলে দুঃখী ।নিজের নাতি নাতনিদের হাত ধরে সে পৌচে যায় সাক্ষরতা কেন্দ্রে । পাড়া প্রতিবেশী ছেলে মেয়ের কথা না পরোযা করেই হাজারো বাধা কে জয করে দুঃখী সময় মতো পৌচে যায় বই খাতা নিয়ে লেখাপড়া শিখতে।৭০ বছরের দুঃখীর আজ একটাই প্রতিজ্ঞা আর টিপ সই নয এখন কলম ধরে নাম সই করবে সে।গত দুই বছর ধরে নিয়মিত সময় করে কখনো নাতি নাতনির হাত ধরে কখনো বা লাঠির উপর ভর করে সাক্ষরতা কেন্দ্রে পৌচে আজ সে জয়ী ।

সে দুই বছরের কোঠর পরিশ্রমে সে শিখে ফেলেছে নিজের নাম সই করা।শিখে ফেলেছে অ, আ,ক,খ ।এখন সে তার বগলে দাপিয়ে আনা বই খাতা গুলো তে রোজ নিজের মনের মতো ভাষা লেখে ,লেখে মনের কথা।আজ সাক্ষরতা কেন্দ্র দুঃখীর মতো চির দুঃখী দের হাতে তুলে দিয়েছে বই খাতা পড়াশুনার সকল সামগ্রী । দুঃখী বর্মনের মতো আজ বয়স্কা বৃদ্ধারা আজ সমাজের চোখে আঙুল তুলিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে শেখার কোন বয়স নেই। ৭০ হোক কিংবা ১০০ পড়াশোনা এই বযসো হয। শুধু চাই দুঃখী বর্মনের মতো মনের জোর আর ইচ্ছা শক্তি । দুঃখী বর্মনের মতো আজ বহু বয়স্কা মহিলারা বিকেল হতেই পৌচে যায কালিয়াগঞ্জ ব্লকের ভাণ্ডার গ্রাম পঞ্চায়েতের চাঁদবাডি মির্জা পুরে সর্ব শিক্ষা সাক্ষরতা কেন্দ্রে । সেখানে গেলেই দেখতে পাওয়া যাবে দুঃখী বর্মনের সাথে সাথে ঝুমুরবালা বর্মন ,কৃষ্ণা বর্মন ,স্বপ্না বর্মনের মতো বহু বয়স্কা মহিলাদের সাক্ষর নিতে।উল্লেখ্য কেন্দ্র সরকার ভারতের প্রতিটি মানুষকে সাক্ষর করতে সারা ভারতবর্ষ জুড়ে গড়ে তুলেছে সাক্ষরতা কেন্দ্র যেখানে গ্রামের দরিদ্র পিছিয়ে পড়া মানুষদের সাক্ষর দান করে তোলা হচ্ছে সমাজের বুকে ।

সেই ফলস্বরূপ উত্তর দিনাজপুর জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম গুলিতে গড়ে ওঠেছে সাক্ষরতা কেন্দ্র । জেলার এমনি একটি সাক্ষরতা কেন্দ্র ভান্ডার গ্রাম পঞ্চায়েতের চাঁদাবাডি মির্জা পুরে। যেখানে গ্রামের বহু বয়স্ক মহিলারা যারা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হয়ে রযেছিল তারা আজ শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে সাক্ষরতা কেন্দ্রে । এই বিষয়ে কালিয়াগঞ্জ এর বিডিও মহম্মদ জাকারিয়া জানান কালিয়াগঞ্জ এর সাক্ষরতা কেন্দ্রে প্রচুর মানুষ উত্সাহের সঙ্গে নিয়মিত এসে নিজের সাক্ষর দান টাকে শোলোযানা টা কে বুঝিয়ে নিতে ।প্রচুর মানুষ আজ সেখানে সাক্ষর হচ্ছেন ।শেখার জন্য যে কোন বয়স লাগে না তা বিভিন্ন সাক্ষরতা কেন্দ্রে গিয়ে বয়স্ক দের উত্সাহ দেখলেই পরিস্কার বোঝা যাচ্ছে

Loading...

চাক‌রির খবর

ভ্রমণ

হেঁসেল

    জানা অজানা

    সাহিত্য / কবিতা

    সম্পাদকীয়


    ফেসবুক আপডেট