অসম নাগরিকপঞ্জি ভাবিয়ে তুলছে বিশ্ববাসীকে ফারুক আহমেদরা প্রতিকার চাইছেন


রবিবার,০৫/০৮/২০১৮

বিশেষ প্রতিবেদক---

উদার আকাশ পত্রিকার সম্পাদক ফারুক আহমেদ বলছিলেন, মিশ্র সংস্কৃতিই আমাদের অর্জিত বৈভব। ভারতবাসীকে এটা ভুলে গেলে চলবে না। দেশের বৈধ্য নাগরিকদেরকে অন্যায় ভাবে বিদেশী বানিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত রুখে দিতে দেশবাসী সোচ্চার হচ্ছেন। এটাই আশার আলো। বাংলার মানুষ ৫ আগস্ট প্রতিবাদ জানিয়ে কালা দিবস পালন করল রাজ্য জুড়ে। অসম নাগরিকপঞ্জির তালিকা থেকে বৈধ্য লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত কোন উদ্দেশ্যে তা বুঝতে পারছেন সচেতন ভারতবাসী। এভাবে আসাম থেকে বাঙালি মুসলমান ও বাঙালি হিন্দুদের খেদিয়ে দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না কেন্দ্র ও আসম সরকার। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস ওরা ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র বানাতে পারবে না। ভারতের সংবিধান ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান। এই ভাবে সংবিধানকে কলঙ্কিত করে দেশকে অপবিত্র করতে আমরা আদিভারতবাসী দেব না। ভারতকে পবিত্র রাখতে দিচ্ছে না অপবিত্র করছে ওরা কারা? ভারত আমাদের মাতৃভূমী।
যে ভাবে ওরা বিদ্বেষ ছড়িয়ে দিচ্ছে তাতে ভারত গভীর সঙ্কটের মধ্য দিয়ে দিন দিন পিছিয়ে পড়ছে অন্য দেশের থেকে। ওদের চরম বিদ্বেষ ছড়ানোর কৌশল দেখে আমরা গভীর ভাবে চিন্তিত। আর লজ্জিত হই এই ভেবে আমার মহান ভারতকে আর কত নিচেয় নামাবে ওরা। প্রশ্ন ওরা কারা? মানুষ না মানুষের মতো অন্য কিছু?
এখন দেশকে রক্ষা করতে মহান আদিভারতবাসীর জাগরণ জরুরি।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও দলিত ইস্যু নিয়ে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর পদক্ষেপের ভূয়ষি প্রশংসার যোগ্য বলছিলেন দলিত ও সংখ্যালঘু সঙ্কট উত্তরণের গবেষক ও উদার আকাশ পত্রিকা-প্রকাশনের সম্পাদক ফারুক আহমেদ।

৫ আগস্ট রবিবার কালা দিবস পালনের পর বাংলার সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদেরকে ফারুক আহমেদ বললেন, ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস বুরো এক রিপোর্টে প্রকাশ করেছে, ভারতে বিগত দশ বছরে দলিত নির্যাতনের ঘটনা ৬৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রতি ১৫ মিনিটে ১টি করে অপরাধমূলক ঘটনা ঘটানো হয়েছে দলিতদের বিরুদ্ধে। দেশে দলিতদের উপর নির্যাতনের ঘটনা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে ফারুক আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন, সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার, বঞ্চনা ও বৈষম্যের ঘটনাও চরমহারে বৃদ্ধি পেয়েছে ভারতে। সংখ্যালঘুদের বিনা দোষে পিটিয়ে মারার ঘটনা দেশবাসীদের গভীর ভাগে ভাবিয়ে তুলেছে এবং তারা ২০১৯ সালে তার জবাব দিতে তৈরী হচ্ছেন।

প্রতিদিন দলিতের ৬ জন নারী ধর্ষিতা হন। বিজেপি শাসিত রাজ্যেগুলিতে দলিত ও সংখ্যালঘু নিপীড়নের ঘটনা অনেক বেশি। “লাভ জেহাদ”, “গো রক্ষা”-র নামে অসহায় সাধারণ মানুষকে পিটিয়ে হত্যা করা হচ্ছে। যা চোখে দেখা যায় না, এই সব দৃশ্য  আদিভারতবাসীদের চোখে জল আনছে।

ফারুক আহমেদ আর‌ও বললেন, এসসি-এসটি আইন পরিবর্তন ও দলিত-সংখ্যালঘু নিপীড়নের  প্রতিকার করতে কলকাতার রাজপথে মহামিছিল ও প্রতিবাদসভার ডাক দিয়েছিলাম আমরা গত ২৮ এপ্রিল ২০১৮। বিভিন্ন দলিত, আদিবাসী ও সংখ্যালঘু সংগঠন নেতৃত্ব দিয়েছিল এই মহামিছিল ও প্রতিবাদসভার।

রেল কর্মচারী, সংখ্যালঘু, দলিত ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে প্রকৃত দলিত নেতা সমীর কুমার দাস ও ফারুক আহমেদের আহ্বানে ২৮ এপ্রিল মহামিছিল ও জনসভা সফল হয়েছিল। বহু নেতৃত্ব বড় ভূমিকা নিয়েছিল এই আন্দোলন সফল করতে। সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন চালিয়ে নিজেদের প্রাপ্য অধিকার ছিনিয়ে নিতে পরামর্শ দিয়েছিলেন ফারুক আহমেদ ও সমীর কুমার দাস। আগামী ৬ ডিসেম্বর কলকাতার রাজপথে আবারও মহামিছিল করার পরিকল্পনা করছেন দলিত ও সংখ্যালঘু সংগঠন।

ফারুক আহমেদ বলছিলেন, আদিভারতীয়দের মধ্যে দলিত ও সংখ্যালঘু মুসলমানরাই সর্বদিকে সর্বাধিকভাবে বঞ্চনার স্বীকার হচ্ছেন এর প্রতিকার করতে আমরা জোটবদ্ধ হচ্ছি। এই বঞ্চনা থেকে মুক্তি পেতে আমাদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা অর্জন করতে হবে। দলিত ও মুসলমান ছেলেমেয়েদের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে।
মাদ্রাসা প্রসঙ্গে তিনি বললেন, রাজ্যে মাদ্রাসা শিক্ষার বেহাল দশা কাটাতে অভিলম্বে শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে। মাদ্রাসায় এখন‌ও পর্যন্ত দলিত ও সংখ্যালঘু মুসলিম ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যাই অধিক।

সে জন্য‌ই কি রাজ্য সরকার এতো অবহেলা করছে মাদ্রাসা শিক্ষা প্রসারের প্রতি? শিক্ষক নিয়োগে এতো অনীহা কেন? জোরালো প্রশ্ন তুলেছেন ফারুক আহমেদ।
এরপর তিনি অভিযোগের সুরে বলেন, রাজ্য সরকার অনুমোদিত ৬১৪ টি মাদ্রাসায় ৭০ শতাংশ শিক্ষক পদ এখনো শূন্য। মাদ্রাসা শিক্ষা আজ ভেঙে পড়েছে, সরকার তবুও কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

বিশ বাঁও জলে তলিয়ে যাচ্ছে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা, কোর্টে কেস চলার অজুহাতে হাত গুটিয়ে বসে রয়েছে সরকার। রাজ্য সরকার চরম অবহেলা করছে মাদ্রাসার প্রতি, তার ফল ভুগতে হবে সরকারকে। কিছু সংখ্যক শিক্ষক সম্প্রতি নিয়োগ হয়েছে তবে এখনও ৬৫ শতাংশ পদে শিক্ষক নেই।

ফারুক আহমেদ দৃঢ়তার সঙ্গে কিছু বিষয় আলোকপাত করলেন এবং বললেন, “রাজ্যে নামেই সাতজন মুসলিম মন্ত্রী কিন্তু মুসলিমদের কল্যাণে কাজের বেলায় একজনও নেই।

রাজ্যে গণতন্ত্র ফেরাতে মমতা সরকার পুরোটাই ব্যর্থ হয়েছে। ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি উন্নয়নের জন্য আজ পর্যন্ত রাজ্য সরকার “ওয়াক্‌ফ উন্নয়ন করপোরেশন” তৈরি করল না। ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি দিনের পর দিন বেহাত হয়ে যাচ্ছে। বেদখল সম্পত্তি ফিরিয়ে আনতে এবং বর্তমানে যে সব সম্পত্তি আছে তা রক্ষা করতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। ওয়াক্‌ফ বোর্ডের কাজ দেখলে মনে হবে গভীর সঙ্কটে আছে।

এই সরকার রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর একটাও হাই মাদ্রাসা নতুন করে অনুমোদন দেয়নি। সবই দশ হাজারের ভাওতা বললে ভুল হবে না। সংখ্যালঘু মুসলিম আধিকারিকদের পুলিশ ও সাধারণ প্রশাসনে নীতিনির্ধারণের কোনও জায়গায় রাখে নি।

“সংবিধান বাঁচাও সমিতি”র ডাকে ২৮ এপ্রিল মহামিছিল ও সমাবেশে এইসব প্রশ্ন তুলে বক্তব্য রেখেছিলেন ফারুক আহমেদ। তিনি বলেছিলেন, ২০০ বছরের পুরানো ঐতিহ্যবাহী হুগলি মাদ্রাসা বন্ধ করে দিল রাজ্য সরকার। সংখ্যালঘু উন্নয়নের ক্ষেত্রে কিছু ভাতা, ‘শ্রী’ যুক্ত প্রকল্প ছাড়া এই সরকার কিছুই করেনি।

অথচ এই সরকার ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার আগে বলেছিল তারা ক্ষমতায় এলে সাচার কমিটির সুপারিশ  রাজ্যে রূপায়িত করতে বদ্ধপরিকর থাকবে। বাস্তবিক গুরুত্বপূর্ণ রাজেন্দ্র সাচারের সুপারিশকৃত পরামর্শ আজও প্রয়োগ করতে এই সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। উল্লেখযোগ্য সুপারিশ ছিল “সমসুযোগ কমিশন” গঠন করতে বলেছিলেন রাজেন্দ্র সাচার। জনসংখ্যার অনুপাতে ব্যাঙ্ক থেকে বেশি বেশি সংখ্যালঘুদের ঋণ দিতেও বলেছিলেন। ব্যাঙ্ক থেকে সংখ্যালঘুদের ঋণ দেওয়া বাড়েনি।

রাজ্যস্তরে সংখ্যালঘুরা উপকৃত হচ্ছে কি না তা দেখার জন্য রাজ্যস্তরে তথ্যপঞ্জী ব্যাঙ্ক গঠন করতে হবে বলেছিলেন রাজেন্দ্র সাচার যাতে অন্যান্য অংশের মানুষের উন্নয়নের সঙ্গে সংখ্যালঘু উন্নয়নকে তুলনামূলক ভাবে বিচার করা যায়।

ফারুক আহমেদ বলছিলেন, বাস্তবিক রাজ্য সরকারের প্রশাসনে সংখ্যালঘু মুসলমিদের প্রতিনিধিত্ব বাড়েনি। সাংসদ প্রতিনিধি বিশেষ করে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে সংখ্যা বাড়লেও সংখ্যালঘু প্রতিনিধির সংখ্যা বাড়েনি, তা উপেক্ষিতই রয়ে গেছে।

পৌরসভা ও পঞ্চায়েত এলাকাতে ওবিসি ক্যাটাগরি “এ” এবং “বি” করে সংখ্যালঘু মুসলিম প্রতিনিধিত্ব কমিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত হয়েছে এবং বিষয়টি গুলিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা হয়েছে। ১২ টি এমন বিধানসভা কেন্দ্র আছে যেখানে সংখ্যালঘুরা ৫০ শতাংশের অধিক অথচ নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে সংরক্ষিত আসন করে দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে রাজ্যসরকার আজ পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এসসি-এসটি-ওবিসি সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য এই সরকার অনলাইন ব্যবস্থা চালু করেছে। একেই গরিব পিছিয়ে পড়া, তার উপর অনলাইন? এই সিদ্ধান্তের জন্য সবাইকে টাকা নিয়ে শহরে ছুটতে হচ্ছে অনলাইন ফর্ম ফিলাপ করতে। আবার সবাই সার্টিফিকেটও পাচ্ছে না, যার ফলে চাকরি, ভর্তি সর্বক্ষেত্রে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। ওবিসি সংরক্ষণের নামে বঞ্চনা চলছেই। ওবিসি সার্টিফিকেট থাকলে চাকরিপ্রার্থীদের আর সাধারণ ক্যাটাগরিতে চাকরিই দেওয়া হচ্ছে না। কেউ কেউ অভিযোগ করছেন।

এখন ওবিসি সার্টিফিকেট আছে তেমন চাকরি প্রার্থীদের মধ্যেই লড়াই করে দু’একটা কোথায়ও চাকরি হচ্ছে। এবছর মুর্শিদাবাদ জেলায় সামান্য প্রাইমারি চাকরি পরীক্ষায় বহু যোগ্য সংখ্যালঘুদের সুপরিকল্পিত ছকে চাকরি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। বহু টেট পাশরা আজও চাকরি পায়নি।

রাজ্যসরকারের চাকরিতে বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়, পুলিশ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সহ বিভিন্ন বিভাগে সংখ্যালঘুদের বঞ্চিত করা হয়েছে, যার ফলে এই সব জায়গায় মুসলিমদের প্রতিনিধিত্ব বাড়েনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সাত বছরে সংক্ষরণ মেনে চাকরি দিলে প্রতি দফতরে ১৭ শতাংশ সংক্ষরণের সুফলে বহু মুসলিমদের চাকরি হতো বাস্তবিক তা হয় নি।

জনসংখ্যার অনুপাতে বহু বেশি পরিমাণে মুসলিমরা শুধুমাত্র কারাগারে রয়েছে।

ভাবুন পরিবর্তনের জন্য সংখ্যালঘুরা এই সরকারকে একচেটিয়া ভোট দিয়েছিল। বাস্তবিক তাঁদের কল্যাণে এই সরকার কিছুই করছে না কিন্তু মুখে বলছে ৯৯ শতাংশ কাজ করে দিলাম।

রাজ্যের যে-কোনও রাজনৈতিক দলের দিকে চোখ রাখলে দেখত পাই শহীদের তালিকায় মুসলমান ও দলিতরাই আছেন। বাস্তবিক সব রাজনৈতিক দল সুপরিকল্পিতভাবে দলিত ও মুসলমানদের লড়িয়ে দেয়, ফলে মারে ও মরে এই উভয় সম্প্রদায়।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুলিশ ও রাজ্য সরকারের ৮২ টির মতো স্বশাসিত সংস্থার চেয়ারপার্সন বা কর্ণধার ও কমান্ডিং পদে কোনও দলিত ও মুসলমানকে বসানো হল না কেন?

ব্যতিক্রম হয়েছিল পিএসসিতে তবে তাঁকে দিয়ে অন্যায় কাজ করিয়ে নিতে না পারায় তাঁর চাকরির মেয়াদ শেষ না হতেই চেয়ারম্যান (শেখ নুরুল হক) পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এখনও পর্যন্ত কোনও মুসলমানকে পিএসসিতে সামান্য সদস্যও করা হয়নি। যা ভারতের অন্য রাজ্যে ভাবাই যায় না।

এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে কোনও মুসলিম পুলিশ আধিকারিককে ডিজি ও কলকাতার পুলিশ কমিশনার করা হয়নি।

ফারুক আহমেদ আরও বললেন, আমরা দেখেছি সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলি পরিচালনার ক্ষেত্রে মুসলমান এবং দলিত নেতাদের নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনও ভূমিকাই থাকে না। ৬৪ সালের দাঙ্গার পর রাজ্যবাসী খুব একটা বড় ধরনের দাঙ্গার মুখোমুখি হয়নি। এখন আমাদের দেখতে হচ্ছে হালিশহর, বাদুড়িয়া, বসিরহাট, আসানসোল প্রভৃতি এলাকার দাঙ্গার ভয়াবহতাকে। ধর্মের নামে অস্ত্রের ঝনঝনানি আজ বাড়বাড়ন্ত, যেন রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা চলছে। সংখ্যালঘু মুসলিমদের জন্য এ রাজ্য যে সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা ছিল তাও আজ সঙ্কটের মুখে। এই পরিস্থিতিতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা রোধে ও দাঙ্গা-পীড়িতদের ন্যায়বিচার এবং ক্ষতিপূরণের স্বার্থে কংগ্রেসের ইউপিএ সরকার যে আইন তৈরি করেছিল তা আজও বিজেপি সরকার আইনে পরিণত করেনি। বাংলার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এই রাজ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে রক্ষা করতে আইন তৈরি করছে না কেন? উন্নয়নের নামে সব জায়গায় দলিত ও মুসলমানদের জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে কিন্তু উন্নয়নের অংশে তাদেরকে ব্রাত্য করে রাখা হচ্ছে। রাজ্যে মুসলমান ও দলিতদের জমি নিয়ে বসবাসের জন্য যত উপনগরী তৈরি হয়েছে সেখানে মুসলমানদের ঠাঁই হয়নি। অল্প জায়গায় ঘেটোবাসী হয়ে বসবাস করাটাই তাদের এখন ভবিতব্য হয়ে উঠেছে।

ফারুক আহমেদ আর‌ও তাঁর প্রেসের কাছে বক্তব্যে বললেন, কোনোরূপ অজুহাত রাজ্যের মানুষ আর শুনতে চাইছে না। বিশ্ববিদ্যালয় সহ সমস্ত চাকরির পরীক্ষাগুলিতে সঠিকভাবে ১০০ পয়েন্ট রোষ্টার মানা হচ্ছে না। তাঁর এবার দাবি, বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে এসসি-এসটি-ওবিসি-“এ” এবং ওবিসি-“বি” চাকরিপ্রার্থীদের চাকরি সুনিশ্চিত করতে রাজ্য সরকারকে ১০০ শতাংশ পয়েন্টে রোষ্টার মেনেই চাকরি দিক। আর তা না হলে আইনি সহতা নিতে ১০০ শতাংশ পয়েন্টে রোষ্টার মানাতে বাধ্য করতে হবে।

ফারুক আহমেদ বললেন, রাজ্যে যোগ্য সংখ্যালঘু ও দলিত আধিকারিকদের গ্যারেজ পোস্টিং দেওয়া হয়েছে এবং হচ্ছে, এই বৈষম্য দূর করতে হবে অবিলম্বে। ২৩টি জেলায় চোখ রাখলে কোনও ডিএম ও এসপি বা কমান্ডিং পোস্টে যোগ্য ও সৎ মুসলিম ও দলিত আধিকারিক কাউকে দেখছি না। কেন? চাকরিরত যোগ্য সংখ্যালঘু ও দলিতদের কেন বঞ্চিত করা হচ্ছে? ব্যতিক্রম আয়শা রানিকে ঝাড়গ্রামের ডিএম করা হয়েছে।
এই বঞ্চনার অবসান ঘটাতে হবে। তার জন্য আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে পথে নামতে হবে, আন্দোলন করতে হবে।

আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বিভিন্ন কলেজ ও শিক্ষাকেন্দ্র থেকে ইসলামি থিয়োলজী বিভাগ তুলে দেওয়ার চক্রান্ত রুখতে হবে।  কয়েক মাস পেরিয়ে গেল রাজ্যসরকার স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগ করছে কিন্তু আলিয়া সমস্যা জিয়ে রাখতে কারা চক্রান্ত করছে তা চিহ্নিত করতে হবে।

গত ২৮ এপ্রিল কলকাতায় দলিত ও সংখ্যালঘুদের কল্যাণে প্রতিবাদ মিছিলে সক্রিয়ভাবে যোগদান করারিদের ধন্যবাদ জানিয়ে ফারুক আহমেদ।

আসাম সরকারের পুলিশ বাহিনী বাংলার জনপ্রতিনিধিদেরকে যে ভাবে অপমান করেছেন তার তীব্র প্রতিবাদ জানাতে আজ ৫ আগস্ট বাংলার মানুষের সঙ্গে ফারুক আহমেদও কালা দিবস পালন করলেন। প্রতিবাদসভা সফল করতে সক্রিয় কর্মীদেরকে অফুরন্ত ধন্যবাদ জানিয়েছেন ফারুক আহমেদ।

রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের টনক নড়াতে ফারুক আহমেদরা বদ্ধপরিকর হয়েছেন। এবারও যদি সরকারের সুমতি না ফেরে তাহলে বাংলায় ও ভারতে নতুন সূর্য ওঠার ডাক দিলেন কবি, সম্পাদক ও দলিত-সংখ্যালঘু নেতা ফারুক আহমেদ। তিনি বললেন, মানুষের প্রকৃত কল্যাণ করতে পারবে এমন কোনও রাজনৈতিক দলকেই ভোট দিয়ে আমরা নতুন সরকার গড়তে এগিয়ে আসব এবং সাহায্য করব। আদিভারতবাসীর জাগরণে এখন এটাই পাথেয়। দেশ ও দশের কল্যাণে আমরা উদার ভারত গড়তে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

চাক‌রির খবর

ভ্রমণ

হেঁসেল

জানা অজানা

সাহিত্য / কবিতা

সম্পাদকীয়


ফেসবুক আপডেট