নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি এক শিক্ষকের


রবিবার,২৬/০৫/২০১৯
794

নিজস্ব প্রতিবেদক ---

বাংলা এক্সপ্রেস ডেস্ক: ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের বিপর্যয়ের পর মুখ্যমন্ত্রীকে খোলা চিঠি এক শিক্ষকের। বাংলা এক্সপ্রেসে সেই চিঠির অংশ হুবহু তুলে ধরা হল।

মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী ,

আমি আপনার রাজ‍্যের একজন শিক্ষক।
লোকসভা ভোটের ফলাফল ঘোষিত হয়েছে।
আপনার দলের ভরাডুবি হয়েছে বলব না।
তবে যে ধাক্কাটা পেয়েছেন, তাতে বর্তমানের নিরিখে বিপর্যয় বলা চলে।চৌত্রিশ থেকে বাইশ!বিজেপির দুই থেকে আঠারো! রাজ‍্য রাজনীতিতে বিজেপির নবজাগরণ। আমার এ চিঠি কোনো বিশেষ দলকে সমর্থন করে লেখা নয়। শুধুমাত্র শাসক দল হিসাবে আপনার সরকারের কয়েকটা ভুল নীতি তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

১) বেকার সংখ্যা বৃদ্ধিঃ কয়েকদিন আগেই একটা তথ্য দেখলাম। দেশের মধ্যে বেকারত্বের দিক দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ অনেক ওপরে বিরাজ করছে। ভাবতে খুব অবাক লাগে, আপনি প্রকাশ‍্য জনসভায় বলছেন
চপ ভাজুন, চুল কাটা শিখুন, টোটো চালান।
সব কাজকে সম্মান জানিয়েই বলছি , এই সমস্ত কাজ করবে বিএ, এমএ বিএড,ডিএড পাশ করা ছেলেরা? এসব কাজ করার জন্য এত কষ্ট করে ,এত টাকা খরচ করে এত শিক্ষিত হবার প্রয়োজন কি ছিল? বিভিন্ন জনসভায় দেখেছি আপনি ইঞ্জিনিয়ারিং, পলিটেকনিক, আইটিআই কলেজ গড়ার এবং এইসব কোর্স করার ব‍্যাপারে যথেষ্ট উৎসাহ প্রদান করছেন। কিন্তু একগাদা টাকা খরচ। এইসব কোর্স করার পরের ভবিষ্যত কি? কর্ম সংস্থান কোথায়? শিল্প কোথায় ? এসএসসি প্রার্থীরা নিয়োগের জন‍্য অনশন করছে, আপনার সরকার সহানুভূতি দেখায়নি। শিক্ষিত যুবকরা আন্দোলন করছে। আজ বাংলার প্রায় প্রতিটা ঘরে বেকার জ্বালায় কষ্ট পাচ্ছে। বেকারত্ব কি জিনিস তা হয়তো ঠান্ডা ঘরে বসে আপনার মন্ত্রীরা বুঝতে পারে না। অনেকটা জোর গলাতেই বলতে পারি, আঠারো বছর থেকে ত্রিশ বছরের ভোটারদের ভোট থেকে আপনি বঞ্চিত হয়েছেন। যতদিন যাচ্ছে মাধ‍্যমিক উচ্চমাধ্যমিকে পাশের শতকরা এবং নম্বরের শতকরা বেড়ে চলেছে। ধরে নিলাম প্রতি বছর দশ লক্ষ ছেলেমেয়ে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছে। ২০১১-২০১৯ পর্যন্ত নব্বই লাখ ছেলেমেয়ে পাশ করছে। কতগুলো চাকরি দিয়েছেন?
ভাববেন না আমি বোকার মতো বলছি। নব্বই লাখ ছেলেমেয়ে কেই সঙ্গে সঙ্গে চাকরি দিতে। কমপক্ষে এই বিশ্বাসটা অন্তত দিন যে,পড়াশোনা শেষে কিছু না কিছু চাকরি পেতে পারে। ভবিষ্যত চিন্তায় যুবসমাজ আজ হীনমন্যতায় ভুগছে। বেকারত্ব বৃদ্ধি ভোট ব‍্যাঙ্কে প্রভাব ফেলেছে। মনে রাখবেন, এটা ২০১৯ সাল, ১৯৯০ নয়। মানুষ আজ অন্ধ নয়। বর্তমানে আঙুলের টাচে হাতের মুঠোয় গোটা বিশ্ব।
বর্তমান সমাজের সবদিক চোখের সামনে উঠে আসছে মোবাইলের স্ক্রিনে। প্রাথমিক বা হাই স্কুলের নিয়োগপত্রের জন‍্য কত রেট চলছে তা চায়ের দোকানে যে কাপ ধোয়, সেও বলে দিতে পারবে।এবার প্রশ্ন হল ,মোদী কি প্রচুর কর্মসংস্থান করেছেন? একটাই উত্তর – না। তাহলে উনি ১৮-৩০ এর মধ্যে ভোটারদের ভোট পেলেন কি করে? উনি আপনার মতো বেকারদের নিয়ে চপ,টোটো,চুল কাটা শব্দ ব‍্যবহার করেননি। পঞ্চাশ হাজার নিয়োগ করে উনি আপনার মতো বলেননি, এককোটি বেকার ছেলেমেয়েদের কর্মসংস্থান করেছেন! কালকেই দেখলাম প্রধানমন্ত্রী বলছেন, উনি কিছু ভুল করলে যেন শুধরে দেন জনতা। আর আপনি তো হামেশাই বলেন, আমাকে জ্ঞান দিতে এসোনা, আমাকে কিছু বোঝাতে এসোনা। হতে পারেন আপনি পশ্চিমবঙ্গের সর্বময় কর্তা। কিন্তু সেটা আমাদের দেওয়া ভোটের জন‍্য। তাই এই অহংবোধ এবং বেকারদের নিয়ে ছিনিমিনি খেলার প্রভাব ভোট ব‍্যাঙ্কে পড়েছে।

২) শিক্ষকদের তথা সরকারি কর্মচারীদের প্রাপ‍্য সম্মান না দেওয়াঃ প্রথমেই তিনটি কথা বলব।
ক) মাননীয় রাজকুমার স‍্যারের মৃত্যু প্রসঙ্গে –
উনি নাকি সিগারেট খেতে ১৫ কিমি রেললাইন বরাবর হেঁটেছেন ( আপনার সরকারি আইনজীবীর বক্তব্য ) খ) শিক্ষকরা নাকি অযোগ্য। এতদিন কিছুই পড়াননি বিদ‍্যালয়ে বা আপনারাই দু’মাস ছুটি ঘোষণা করার পর। যত গরম কি শুধু মাষ্টারদের লাগছে ( বক্তব্য আমাদের শিক্ষামন্ত্রীর) গ) ঘেউ ঘেউ করবেন না ( এই বক্তব্য আপনার নিজের )একবার শিক্ষক হিসাবে ভাবুন তো! কথাগুলো কি খুব সম্মানের? আমি মনে করি, যে শাসকদল শিক্ষকদের সম্মান করতে জানে না, তাদের অবলুপ্তি অবশ‍্যম্ভাবী। বকেয়া ডিএ নেই, পে কমিশন বিশ বাঁও জলে। প্রাথমিকে PRT scale নেই, বেশিরভাগ হাই স্কুল গুলোতে একটা বিষয়ের একটা শিক্ষক দিয়ে উচ্চমাধ‍্যমিক চলছে। সেন্ট্রাল ফোর্সের জন‍্য আন্দোলন করছেন,PRT scale চেয়ে আন্দোলন করলে বদলি করে দিচ্ছেন অন‍্য জেলায়। অথচ প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিকে transfer নিয়ে কোনো হেলদোল নেই। শিক্ষক নিয়োগ শুধুই আইনি জটিলতায় আটকে যাচ্ছে। আর একটা প্রসঙ্গ বলতেই হবে। বিরোধীরা বনধ ডাকলেই স্কুলে ( যদিও সমস্ত সরকারি অফিস ) যাওয়ার জন্য রীতিমতো হুইপ জারি। উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করেছেন এবং বেতন কাটার এমনকি সার্ভিস বুক ব্রেক করার ফতোয়া জারি করেছেন।
আপনি বোধহয় ভুলে যাচ্ছেন, এটা গণতান্ত্রিক দেশ।
এভাবে কাউকে জোর করে CL না নিতে বাধ‍্য করতে পারেন না। একটা সত্যি কথা বলি ,
আপনি যখন এই ব‍্যাপারে ফতোয়া জারি করেন তখন আপনার বনধ ডাকার সংখ্যার কথা বড্ড মনে পড়ে।

আজ একজন নাম লিখতে না পারা গজিয়ে ওঠা নেতাও স্কুলের প্রধান শিক্ষককে হুমকি দেবার সাহস পায়!
শাসক দল হয়ে এরকম শিক্ষক বিদ্বেষী বা পুরো সরকারি কর্মচারী বিদ্বেষী মনোভাব শিক্ষক সমাজ মেনে নেয়নি।
তার প্রভাব ভোটে পড়েছে।
আপনার কাছে সরকারি কর্মচারীদের ৩ শতাংশ ভোট গুরুত্ব পায়নি।
প্রথম থেকেই উপেক্ষা করে এসেছেন।

উল্টোদিকে সরকারি কর্মচারীদের ন‍্যায‍্য ডিএ , পে কমিশন বা স্কেল থেকে বঞ্চিত করে
ক্লাবে দান ,উৎসবে খরচ, মদ খেয়ে মারা গেলে টাকা, ইমাম ভাতা…. এইসব করে উড়িয়ে গেছেন।

এখন আর বাম আমলের ঋণের কথা শুনতে পাইনা।
সম্ভবত আপনারাও অনেক ঋণ করেছেন। অবশ্য এটা ভুল কিছু নয়। ঋণ সব রাজ‍্যের আছে।
তবে ন‍্যায‍্য পাওনা সরকারি কর্মচারীদের দেননি।
ভাবার সময় এসেছে।

৩) সংখ‍্যালঘু তোষনঃ প্রথমেই বলি মুসলিম বন্ধুদের প্রতি কোনো বিদ্বেষ রেখে কিছু বলছি না। আমাদের দেশ সর্বধর্ম নির্বিশেষে বহমান। সব ধর্মই মহান।
কিন্তু আপনি বড্ড বেশি মাতামাতি করে ফেলেছেন সংখ‍্যালঘুদের নিয়ে। মোদিকে তোপ দাগছেন ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করছেন বলে কিংবা ধর্মীয় বিভেদ সৃষ্টি করছে বলে। অথচ আপনিই যে অগোচরে কবে কিভাবে ভোটের জন্য ধর্মকে ব‍্যবহার করেছেন,
বুঝতেই পারেননি। বিজেপি হিন্দু ধর্ম সম্প্রদায়ের দল। এটা সর্বজনবিদিত। কিন্তু তাবলে তারা জয় শ্রীরাম বললে সেটা গালাগাল বলবেন? জয় শ্রীরাম বলার জন‍্য তাদের হেনস্থা করবেন? আমার অনেক মুসলিম বন্ধু আছে , যারা আপনার এই সমস্ত কথাবার্তা বা আচরণ ভালো ভাবে নেননি।
সকালেই দেখলাম একটা তথ্য। পশ্চিমবঙ্গে ১২টি সংখ‍্যালঘু আসনে ৯টিতে তৃণমূল ভালো ফল করেছেন। আপনার ভোট ব‍্যাঙ্ক কোথায় আটকে আছে, বুঝে নিন। ভাবার সময় এসেছে।

৪) পুলওয়ামার নৃশংস হত‍্যাকান্ডের পর আপনার কিছু কার্যকলাপ বা বক্তব্যঃ ৪৯ জন ভারতীয় জওয়ানকে পাকিস্তানি জঙ্গিরা হত‍্যা করল। তার জন‍্য মোদী কড়া পদক্ষেপ নিল। পাকিস্তানের বুকে গিয়ে জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করে এর। আর আপনি বলছেন ভিডিও ফুটেজ দিন!
বাহ! এছাড়াও নানাভাবে কটাক্ষ করেছেন কেন্দ্রকে।
অথচ যখন কলকাতায় বিদ‍্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার জন‍্য সিসিটিভি ফুটেজ চাওয়া হল, আপনারা বলছেন সিসিটিভি অকেজো! বাহ! এতটাই কি বোকা হয়ে গেছে বাঙালি? যেখানে গোটা বিশ্ব এমনকি পাকিস্তান পর্যন্ত মেনে নিচ্ছে যে জঙ্গি ঘাঁটি আক্রমণ করেছিল ভারতীয় বায়ুসেনা, সেখানে আপনি ভিডিও ফুটেজ ছাড়া বিশ্বাস করতে চাইছেন না। আর নিজের রাজ‍্যের সামান্য সিসিটিভি ফুটেজের বেলায়! প্রশ্ন করুন নিজেকে। ভাবার সময় এসে গেছে।

৫) বিরোধী শূন্য করার আপ্রাণ চেষ্টাঃ
প্রথমেই একটা ছোট্ট কথা বলব। আমি যদি নিজের পড়াশোনা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী থাকি, তাহলে পরীক্ষা হলে কড়া স‍্যার গার্ড দিল না লুজ গার্ড দেওয়া স‍্যার গার্ড দিল, তাতে কি আসে যায় ? আপনার উন্নয়ন নিয়ে , আপনার কাজ নিয়ে ঠিক এতটাই আত্মবিশ্বাসী থাকলে সেন্ট্রাল ফোর্স দিয়ে ভোট করানোর জন‍্য এতটা আপত্তি করতেন না..
আপনার দলীয় নেতারাই বলছেন – ভোটের পর কি আর কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে? বুঝে নিন এই কথার অর্থ। অমিত শাহ রোড করছেন। ভালো কথা।
ওনার রোড শো বাঞ্চাল করার চেষ্টা হবে কেন?
মানুষ সব দেখছে। এটা ২০১৯ ভালো মন্দ বোঝার ক্ষমতা এসেছে বেশিরভাগ মানুষের। এমন কাজ করুন , যাতে ভারতবর্ষের সমস্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট করালেও যেন জিততে পারেন।
সেন্ট্রাল ফোর্সের জন‍্য যেন শিক্ষক সমাজকে পথে না বসতে হয়! মনে রাখবেন ,শিক্ষক সমাজ আগেও সমাজের কারিগর ছিল, এখনও আছেন।
শুধু সম্মানটা পান না বর্তমানে।ভাবার সময় এসেছে।

৬) ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ না করাঃ বিশ্বাস করুন ,
শেষ কবে আমাদের রাজ‍্যের অর্থমন্ত্রীকে টিভির পর্দায় বা খবরের কাগজে দেখেছি মনে নেই।
আপনি এবং শিক্ষামন্ত্রী ছাড়া আর কোনো কার্যকরী মন্ত্রী আছে বলে আমার মনে হয় না। প্রত‍্যেকটা দপ্তর যখন আলাদা, মন্ত্রী যখন আলাদা, তাদের ক্ষমতা কোথায়? সেই পদের প্রাসঙ্গিকতা কোথায়?
ডিএ ঘোষনা করার মতোও ক্ষমতা আমাদের অর্থমন্ত্রী পাননি। বিশ্বাস করুন , এটা সত্যিই হাস‍্যকর। ক্ষমতার মেরুকরণ করুন। প্রত‍্যেককে স্বাধীনতা দিন। নাহলে মানুষের কাছে একনায়কতন্ত্রের বার্তা যাচ্ছে।ভাবার সময় এবার সত্যিই এসেছে।

৭) রংচটা বা চাঁচাছোলা ভাষায় বিরোধীদের আক্রমণঃ রাজনৈতিক কারণে বিরোধী দলের সাথে মতবিরোধ থাকবেই। একে অপরকে আক্রমণ ব‍্যাপারটাও থাকবে। কিন্তু সেখানে ভাষা সংযম থাকবে না?? আমি মেনে নিলাম , আপনি মোদিকে একদম পছন্দ করেন না। বিজেপির নীতি একদম পছন্দ করেন না। কিন্তু তবুও উনি আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী। নোংরা ভাষায় আক্রমণ করাটা একটা মূখ‍্যমন্ত্রীর শোভা পায় না। লক্ষ বার আক্রমণ করুন রাজনৈতিক স্বার্থে। কিন্তু শালীনতা বজায় রাখুন।
বিরোধীদের প্রতি সৌজন্য দেখান। এই প্রসঙ্গে একটা কথা বলি। রাহুল গান্ধী সব জনসভায় বলে গেল –
চৌকিদার চোর হ‍্যায়! দেশের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রমাণ ছাড়া এ ধরনের বক্তব্য ভালো ভাবে নেননি কেউ। ফল প্রমাণিত। কংগ্রেস আর কোনোদিন শিরদাঁড়া সোজা করতে পারবে কিনা সন্দেহ আছে!
ভাবার বিষয়, যখন অশালীন ভাষায় প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করা হচ্ছে, তখন জনতা হাততালিতে ফাটিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু তবুও তার প্রভাব দেখুন ভোট ব‍্যাঙ্কে!

৮) নীচুতলার দলীয় কর্মীদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ ব‍্যবহারঃ
প্রথমেই বলতে হবে বামফ্রন্টের কথা। বাম আমলের পতনের কারণ নিচুতলার কর্মীদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ ব‍্যবহার।শেষের দিকে বাম কর্মীদের অত‍্যাচার এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে ,মানুষ দিন গুনছিল কবে বামফ্রন্টকে সরানোর সুযোগ পাবে! দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আপনাকে পশ্চিমবঙ্গের মসনদে বসাই। অনেক আশা নিয়ে বাংলার মানুষ মা মাটি মানুষের সরকারকে সাদরে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। কিন্তু জেনে রাখুন, বামেরা শেষ দশ বছরে যে ধরনের অত‍্যাচার, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যাবহার করেছিল….
অলরেডি আপনাদের নিচুতলার কর্মীরা সেই সীমা লঙ্ঘন করেছে। টাকা ছাড়া চাকরি নেই
এই বাক্যটি পশ্চিমবঙ্গের ট‍্যাগ লাইন হয়ে গেছে।
সামান্য ১০০ দিনের কাজের সুপারভাইজার বর্তমানে লাখপতি। আমাদের মতো শিক্ষকদের কেনার মতো অবস্থায় চলে গেছে। সামান্য সিভিক পুলিশের ক্ষমতা SDO বা BDOর থেকেও বেশি। সাধারণ মানুষ সব দেখছে।এবারের ফলাফল যদি লক্ষ্য করেন ,তাহলে অবশ্যই জানেন। আপনার পিঠ বাঁচিয়ে দিয়েছে কলকাতা এবং শহরতলীর আসনগুলো। কারণটা ভাবুন। ভাবার সময় এসেছে।

৯) পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতিঃ এটা এক কথায় স্বীকার করতে হবে। আপনি পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষদের জন্য অনেক কিছু দিয়েছেন।
সাইকেল,জুতো,ব‍্যাগ,কন‍্যাশ্রী,খাতা, বিভিন্ন ভাতা,দুটাকা দরের চাল ডাল। তবুও মানুষ খুশি নয়। কারণ মানুষ আজ পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়।আপনারা যেটাকে উন্নয়ন বলে মনে করেন,আমি সেটাকে মানি না।উন্নয়ন মানে ,
দু টাকা দরের চাল সবাইকে পাইয়ে দেওয়া নয়।
বরং ঠিক উল্টোটা।

চাক‌রির খবর

ভ্রমণ

হেঁসেল

জানা অজানা

সাহিত্য / কবিতা

সম্পাদকীয়


ফেসবুক আপডেট