সোমেনের স্বপ্ন- এন.কে.মণ্ডল (দ্বিতীয় পর্ব)


সোমবার,০৯/০৯/২০১৯
400

সোমেনের স্বপ্ন

প্রথম যে সুন্দর মেয়েটি খাবারের থালাটি এনেছিল। ওই মেয়েটি বাদে সবাই চলে গেলো।এবং মেয়েটি খাবার, সুরা উপস্থাপন করল। সোমেন চায়ের দোকানে আড্ডা দিলেও কোনোদিন সুরা বা মদ পান করে নি। তাই সুরা বা খাবার কোনোটি খেতে অনিচ্ছুক। ওদের আবার নিয়ম আছে কেউ যদি খাবার না খায় তবে পূর্বের ঘটনা সব মনে পড়ে যাবে। সোমেনের তাইই হল। পূর্বের ঘটনা মনে পড়ে গেলো।তখন মেয়েটি রাগে ফেটে পড়ল আর গর্জন করতে করতে চলে গেলো। মেয়েটি ছিল আসলে রাজকন্যার প্রধান দাসী। অনেক্ষন পরে আরেকজন সুন্দরী যুবতী আসল সোমেনের কাছে। এবং সে বলল। মহাশয় আমার সেলাম নেবেন। তারপর বলেন যে চলুন আমাদের রাজ্যটা ঘুরে ঘুরে দেখবেন।মেয়েটিকে অনুরোধ জানাই যে তাকে যেনো ছেড়ে দেয়। মেয়েটি সেদিকে নজর না দিয়ে তাকে বলে যে আপনি চলুন বেড়াবেন ঘুরে ঘুরে দেখবেন ভালো লাগবে।

সোমেন মেয়েটির কথায় রাজি হয়ে বেড়াতে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করল। মেয়েটি আরো এগারোজন সুন্দরী রমণীকে হাতের ইশারায় ডেকে নিয়ে চলে গেলেন সোমেন কে রাজ্য দেখানোর জন্য।সোমেন দেখে তো অবাক।হতভম্ব। আমাদের মত দোকানপাট,বাজার ঘাট,সবকিছু আছে।তারপর নিয়ে গেলো রাজবাড়ির পার্কে। সেখানে অনেককিছু সোনা,রুপা,আবার কিছু কিছু হিরে, মুক্তা খচিত আছে।চোখ জুড়িয়ে গেলো। সেইসব জায়গাগুলিতে বসল।খুব আরামদায়ক।অনেককিছু দেখানোর পরে নিয়ে গেলো রাজকন্যার কাছে।রাজকন্যা তো দেখেই অবাক। মানুষ এতো সুন্দর আর সুঠাম শরীর আর পেশীগুলো বক্সারদের মতো।শরীরে অনেক শক্তি আছে মনে হয়।রাজকন্যা দেখেই প্রেমে পড়ে গেছে।সোমেন কে রাজকন্যার কাছে বসিয়ে দিয়ে চলে যায় দাসীরা।রাজকন্যা মন দিয়ে দেখতে থাকে সোমেন কে।অনেক্ক্ষণ দেখার পর সোমেনের ডাকে ধ্যান ভাঙ্গে।তখন রাজকন্যা বলে প্রিয় তুমি আমায় ছেড়ে কোনোদিন যেও না আমি তোমায় অনেক ভালোবেসে ফেলেছি।আমি সবাইকে ভোগ করার পর ছুড়ে ফেলে দিই কিন্তু তুমি আমার মন কেড়ে নিয়েছো প্রিয়।সোমেন চালাকির সঙ্গে বলে তুমি যদি আমায় ভালোবাসো তাহলে আমায় আমার বাড়ি থেকে একবার ঘুরে আসতে দাও।

আমার বউকে আলুর চপ বেগুনী দিয়ে আসব।আর তোমার যে জ্বীন আমার আলুর চপ, বেগুনী খেয়েছে তাকে আমার কাছে খমা চাইতে হবে।দাসীকে ডেকে ঠ্যাং কাটা জ্বীনকে ডাকার আদেশ করল।ঠ্যাং কাটা জ্বীন অবশেষে খমা পার্থনা করে খমা চাই।সোমেন রাজকন্যা কে প্রেমের জালে ফেলে কিছু সোনা,হিরে,মুক্তা নিয়ে বাড়ি আসে।এবং তা বাড়ির লোহার আলমারিতে রাখে।এমন সময় বউ ডাক দেয়।এই শুনছো উঠো উঠো আর কতক্ষন ঘুমাবে সকাল সাতটা বাজে। ঘুম থেকে উঠে দেখে যে আসলে কোথাও যায় নি স্বপ্ন দেখছিল। সোমেন মনে মনে ভাবে তাহলে যা যা হল আমার সঙ্গে হল তা সবকিছু মিথ্যা।পরে ওয়াসরুম থেকে কাজ সেরে স্নান করে আলমারি খুলে। আলমারি খুলতেই দেখে সোনা,হিরে,মুক্তা ইত্যাদি রত্নতে লোড করে রাখা আছে।সোমেন দেরি না করেই বন্ধ করে দেয় আলমারি।বিছানায় এসে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকে।বড় চিন্তায় পড়ে গেছে যে সবকিছু সত্যি হয়ে গেছে।তবে কি আবার আমায় ওখানে যেতে হবে নাকি।এই বলে সে কাঁদতে থাকে।

এন.কে.মণ্ডল

Loading...

চাক‌রির খবর

ভ্রমণ

হেঁসেল

জানা অজানা

সাহিত্য / কবিতা

সম্পাদকীয়


ফেসবুক আপডেট