বাংলাদেশে বসছে মেট্রোরেলের লাইন


বুধবার,১৩/১১/২০১৯
257

ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকা: মেট্রোরেল-৬ এর জন্য ট্র্যাক বসানোর প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গেছে। রেলওয়ে ট্র্যাক ইতোমধ্যে চলে এসেছে। আর জানুয়ারিতে দেশে আসবে মেট্রোরেলের নমুনা। মেট্রোরেল নিয়ে নগরবাসীকে ধারণা দিতে উত্তরার দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেল ডিপোতে স্থাপন করা হবে এই নমুনা ট্রেন। রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেলের লাইন নির্মাণের কাজ চলছে। আর জানুয়ারিতে দেশে আসবে মেট্রোরেলের নমুনা। মেট্রোরেল নিয়ে নগরবাসীকে ধারণা দিতে উত্তরার দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেল ডিপোতে স্থাপন করা হবে এই নমুনা ট্রেন। ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন সিদ্দিক জানিয়েছেন, মেট্রোরেল-৬ এর জন্য ট্র্যাক বসানোর প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গেছে। রেলওয়ে ট্র্যাক ইতোমধ্যে চলে এসেছে। ট্র্যাক বসানোর জন্য কিছু পূর্বপ্রস্তুতি লাগে। এখন পূর্বপ্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। নভেম্বরের শেষ দিকে এসব ট্র্যাক বসানোর কাজ শুরু হয়ে যাবে। উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অংশে ভায়াডাক্টের ওপর রেললাইন বসে যাবে। বাহ্যিকভাবে ডিসেম্বরে এটা দেখা যাবে।

৩ নভেম্বর রোববার উত্তরার দিয়াবাড়িতে দেখা গেছে, ডিপো থেকে উড়ালপথে ট্রেন ওঠার পথ তৈরির কাজ চলছে। সেখানে কর্মরত প্রকল্পের কর্মীরা জানান, পাথর-বালুর মিশ্রণে সাববেইজের কাজ শেষ। সাববেইজের ওপর থাকবে পাথর, পাথরের ওপর স্স্নিপার আর পাত বসবে। মেট্রোরেলের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো পরিচালনা হবে ডিপো এলাকা থেকে। সেখানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের কর্মযজ্ঞ চলছে। ডিপোর ছাউনির জন্য ইস্পাতের কাঠামো তৈরি হয়ে গেছে। এখানে রেলের টেস্ট ট্র্যাক বেড, কোচ আনলোডিং এরিয়া, জ্যাকপিট, বগি টার্ন টেবল, বগি ওয়াশ পস্নান্টসহ অন্যান্য অংশের ভিত্তি নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা, জলাধার, প্রশাসনিক ভবন, মসজিদ, মেডিকেল সেন্টারসহ অন্যান্য স্থাপনাও নির্মাণ হচ্ছে। মেট্রোরেল প্রকল্পের হিসাবে এই অংশের অগ্রগতি ৬০ শতাংশ। ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন সিদ্দিক জানান, রেল কোচ ও ডিপোর যন্ত্রাংশ সংগ্রহের কাজ দৃশ্যমান হতে দেরি হবে। প্যাকেজ আটের আওতায় রোলিং স্টক এবং ডিপো ইকুইপমেন্ট আসবে। এটা তেমন দৃশ্যমান হচ্ছে না। কারণ, বেশিরভাগ যন্ত্রপাতি বিদেশে তৈরি হচ্ছে। এগুলো তৈরির পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জাহাজীকরণ করা হবে।

এগুলো আসতে শুরু করলে খুব কম সময় বিষয়গুলো দৃশ্যমান হবে। মেট্রোরেল সম্পর্কে যাত্রীদের ধারণা দিতে ট্রেনের একটি নমুনাও জাপানে তৈরি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন মেট্রোরেল কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি বলেন, ট্রেনের প্রথম ‘মকআপটা’ তৈরি হয়ে গেছে, দেশে আসবে জানুয়ারি মাসে। আমরা এটা ডিপোতে বসাব। কারণ, বাংলাদেশে ইতোপূর্বে কোনো মেট্রোরেল ছিল না। টিকিট কাটা, ট্রেনে চড়া, দাঁড়ানো, নামা, ট্রেনের ভেতর এবং স্টেশনের নির্দেশিকাগুলো কেমন থাকবে- এসব বিষয়ে মানুষকে ধারণা দিতেই এমআরটি তথ্য ও প্রদর্শনীকেন্দ্রে এটা থাকবে।’ এমএএন সিদ্দিক জানান, ২০২০ সালের ?১৫ জুনে মূল ট্রেনের প্রথম সেট আসবে। এরপর ট্রেনগুলো পর্যায়ক্রমে আসতে থাকবে। ডিএমটিসিএলের হিসাবে, মেট্রোরেল-৬ প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি এখন পর্যন্ত ৩৫ ভাগ। এই প্রকল্পের প্রথমপর্যায়ে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অগ্রগতি ৫৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের আগারগাঁও থেকে মতিঝিল অংশের অগ্রগতি ২৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ। প্রকল্পের ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল সিস্টেম এবং রোলিং স্টক ও ডিপো যন্ত্রপাতি সংগ্রহ কাজের অগ্রগতি ১৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ। মেট্রোরেলের লাইন-৬ এর কাজ আটটি প্যাকেজে করা হচ্ছে। প্যাকেজ-১ এর আওতায় ডিপো এলাকার ভূমি উন্নয়ন কাজের অগ্রগতি শতভাগ। ডিপো এলাকার পূর্ত কাজ হচ্ছে প্যাকেজ দুইয়ের আওতায়; এর অগ্রগতি ৬০ ভাগ।

প্যাকেজ তিন ও চারের আওতায় উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট এবং ৯টি স্টেশন নির্মাণ করা হচ্ছে। এই কাজের অগ্রগতি ৫৭ ভাগ। আগারগাঁও থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত তিন দশমিক ১৯৫ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট ও তিনটি স্টেশন নির্মাণ হচ্ছে প্যাকেজ পাঁচের আওতায়। এই অংশের অগ্রগতি ২৩ দশমিক ৪৩ ভাগ। এই অংশের কাজ শুরু হয়েছে ২০১৮ সালের ১ আগস্ট। কারওয়ান বাজার থেকে মতিঝিল পর্যন্ত চার দশমিক ৯২২ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট ও চারটি স্টেশন নির্মাণ হচ্ছে প্যাকেজ ছয়ের আওতায়। এই কাজের অগ্রগতি ২৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ। মেট্রোরেলের বিদ্যুৎ ও যান্ত্রিক ব্যবস্থা স্থাপনের কাজ হচ্ছে প্যাকেজ সাতের আওতায়। এই অংশের অগ্রগতি ২১ দশমিক ৮২ শতাংশ। আর প্যাকেজ আটের আওতায় রেল কোচ ও ডিপো যন্ত্রপাতি সংগ্রহের অগ্রগতি ১৭ দশমিক ৬১ শতাংশ।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মেট্রোরেল প্রকল্পের পুরো অংশ চালু করে দেয়া হবে জানান ঢাকা মাস ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এ সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করা সম্ভব কিনা জানতে চাইলে সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সাবেক এই সচিব বলেন, তারা নির্ধারিত সময়েই শেষ করতে পারবেন। এমআরটির পস্ন্যানিং স্টেজটা অনেক বড় থাকে। ২০১৬ সালে ২৬ জুন এই প্রকল্পের মূল কাজ শুরু হয়েছে। এর আগে ২০টার মতো স্টাডি করা হয়েছে। এরপর এর বেসিক ডিজাইন করা হয়েছে। এর সঙ্গে সঙ্গে এটার ফিজিবিলিটি স্টাডি করা হয়েছে। মূল কাজ শুরুর আড়াই বছরের বেশি সময় পার হওয়ার পর যে অগ্রগতি হয়েছে, তা দেখলেই বোঝা যাবে প্রকল্পটি নির্ধারিত সময় শেষ হবে কিনা। ‘আমরা এখন ২৪ ঘণ্টা প্রকল্পের কাজ চালু রাখার ব্যবস্থা করেছি। ঠিকাদার এবং পরামর্শকদের সঙ্গে চুক্তিতে এসেছি টানা ২৪ ঘণ্টা কাজ করার ব্যাপারে।

নির্ধারিত সময়ের আগে যে প্রকল্পের কাজ হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।’ উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২০ দশমিক ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রোরেল-৬ বাস্তবায়নে খরচ হচ্ছে ২২ হাজার কোটি টাকা। ২০১৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর এই প্রকল্পের মূল কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের কাজ শেষ করে মেট্রোরেল চলাচল শুরুর জন্য কয়েক দফা সময় নির্ধারণ করা হয়। সবশেষ ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মেট্রোরেল চালুর কথা জানাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। গত ১১ ফেব্রম্নয়ারি জাপানের দাতা সংস্থা জাইকা জানিয়েছে, ২০২২ সালের মধ্যে ঢাকায় মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ হবে।

চাক‌রির খবর

ভ্রমণ

হেঁসেল

জানা অজানা

সাহিত্য / কবিতা

সম্পাদকীয়


ফেসবুক আপডেট