গল্প || ভালোবাসার পরশ ছোঁয়া || – এন.কে.মণ্ডল


বৃহস্পতিবার,১৩/০২/২০২০
613

গল্প || ভালোবাসার পরশ ছোঁয়া || -লেখক: এন.কে.মণ্ডল

সপ্তম পর্ব

রহিম ও নাদের এসে রমজান মাতব্বর কে বলল। বুকুল মাস্টার রাজি তো হয় নি, বরং করিমের দলে যোগ দিয়েছে। তাই তো। বড়ই মুস্কিল। তাহলে নিফাজদ্দিকেই দুই নম্বর বুথে দাঁড় করাব। আর অন্য বুথে কি হবে। সেসব পরে দেখা যাবে। এখন এই দুই বুথের কথা ভাবছি। নিফাজ কে জানিয়ে দাও। পার্থী হিসাবে ওকেই মনোনীত করা হল। ঠিক আছে। আর তোদের পার্থীও করা হবে। তিন ও চার নম্বর বুথে। আর একটা হবে সুবিদ মিয়া। ওকে পাঁচ নম্বর বুথে দাঁড়াবে। কথা হয়ে গেছে। নাদের বলল, তাহলে তো পার্থী মনোনীত কাজ শেষ। তোরা যা পারবি টাকা যোগাড় কর। আর বাদ বাকি আমিই দেব। কেমন। যারা পার্থী মনোনীত হয়েছে, তাঁদেরকে নিয়ে একটা আলাদা সভা হবে। পার্টি অফিসেই হবে। আর পিপলস পার্টির পার্থী দেবে না নাকি। বোধ হয় না। সে দেখা যাবে। পরেরদিন সকাল বেলায় ফোন বেজে উঠল নাহিদের পকেটে। জিন্স প্যান্টের পকেটে। বড় স্মার্টফোন। হ্যালো। বল। কি ব্যাপার। এত সকালে ফোন। কিছু না এমনি। ওহ তা ভালো। কি করছিস। এই আব্বু নির্বাচনের জন্য আলাপ আলোচনায় বেরিয়েছে তাই যাচ্ছি। ওহ। তা ভালো। শশুরের বিপক্ষে তোর আব্বু পার্থী হচ্ছে। বিয়ে হবে তো তোদের। সে আল্লাহর ব্যাপার। কিন্তু আমি সর্বদা রিনা কে পেতে চাই। এই জানিস সেদিনকার ঘটনার পর থেকে আমার অন্য এক উত্তেজিত লোভ চাগাড় দিচ্ছে মনে। সত্যি। সত্যি না তো মিথ্যা বলছি তোকে। আচ্ছা নয়না তুই বলতো এটাকেই কি বলে মহব্বত। সে আমি জানি না।

এই নয়না তোকে পরে কথা বলব। বুঝতেই পারছিস। এখন প্রচুর কাজ। ঠিক আছে পরে কথা বলিস। ঠিক আছে। এমন সময় করিম ডাক দেয়। কই নাহিদ বাবা। হেটে এসো। হ্যাঁ বাবা। বকুল মাস্টার বলল, এবার সামনের ইয়াসিনের বাড়িতে ঢুকতে হবে। হ্যাঁ মাস্টার। ফজলু বলে উঠল, কি ফজলু ভাই আছেন নাকি। কিছুক্ষণ পরে উত্তর আসলো। হ্যাঁ আছি। বাড়িতে আসুন।ভিতরে সব দলবল নিয়ে প্রবেশ করল। এবং নাফিজ ডাক্তার বলল, দ্যাখ ভাই তোরা তো সবই জানিস। বলার কিছু নেই। আমাদের এই বুথের পার্থী হচ্ছে করিম ভাই। ভোট টা অবশ্যই দিস। হ্যাঁ ভাই অবশ্য দিব। চিন্তা নেই। কোন মার্কায় ভোট দিতে হবে ভাইয়া। এখনো নির্বাচন কমিশন কোনো মার্কা দেন নি। আগামীকাল নমিনেশন ফাইল। পাড়ায় পাড়ায় নির্বাচনী কর্মসূচি চালান। প্রায় সব পাড়াতেই বিরাট ভোটের সাড়া পান। বিপরীদে অন্যদল ঘুরে ঘুরে ভোট চায়। কিন্তু সাধারণ মানুষের মুখ দেখে তারা সন্তুষ্ট হন নি। প্রায় সত্তর শতাংশ মানুষ অসন্তুষ্ট। করিমের দল প্রত্যক বুথে পার্থী দিয়েছে। পাঁচ সংসদে পার্থী দিয়েছে। বা সিলেক্ট করেছে। আগামীকাল নথিপত্র দাখিল করবে করিমের পার্টি অর্থাৎ সোশ্যালিস্ট পার্টি অফ থমথমপুর (SPF)। রমজান মাতব্বর তাঁর পুরাতন পার্টি সভাপতি ভুল বুঝাবুঝি ভেঙ্গে আবার পিপলস পার্টিতেই ফিরে গেছে। ওদের পার্থী আগেই হয়ে গেছে। রমজানের পিপলস পার্টির নমিনেশন আজ জমা করেছে। স্থানীয় বিডিও কে। সাদেক মাতব্বর নিজেই দাঁড়িয়েছে।গত সংসদে। তাঁদেরও পার্থী দেওয়া শেষ তবে নমিনেশন জমা আগামীকাল। সোশ্যালিস্ট পার্টির জমা দেওয়ার দিন।

১৭

দিনটা ছিল মঙ্গলবার। সকাল সকাল কাজকর্ম করে নিচ্ছে করিমের পার্টি। পার্টি সভাপতি অর্থাৎ স্বয়ং দুও নম্বর সংসদের পার্থী আব্দুল করিম শেখ। সহ সভাপতি অর্থাৎ এক নম্বর সংসদের পার্থী ডাক্তার নাফিজ আলি। সম্পাদক ফজলু শেখ। সমস্ত পেপার্স ঠিক করছেন। ওদিকে সাদেক কাজ আগে থেকেই গুছিয়ে নিয়েছে কাজ। কারণ তাঁর সব কিছুই জানা। যেহেতু কয়েকদিন আগেই ছিলেন এগারো নম্বর সংসদের পঞ্চায়েত সাংসদ।বর্তমানে পঞ্চায়েত নতুন হওয়ায় দুই নম্বর সংসদের পার্থী। তাছাড়া রাজনীতিতে অনেক দিন থেকেই আছেন। সেদিক থেকে পাকা লোক। কিছুই বলতে হবে না। পরিক্ষার তারিখ বদলে দিয়েছে সরকার। সরকার নিজেদের স্বার্থে ছাত্র ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলা করছে। নাহিদের মন খারাপ পরিক্ষাটা আগে হলেই ভালো হত। বাবার নির্বাচনে কাজ করতে পারত। বাবা কে জিতাতেই হবে। তাহলে অনেক কিছু হাতের মুঠোয় আসবে। নাহিদ ও সুজনের প্রাক্তন বন্ধু সুজন এখন সাদেকের সঙ্গে গলা মিলিয়েছে। এখন পার্টির যুব সভাপতির পদ পেয়েছে। সে তাঁর মেজাজ দেখা মুস্কিল। পার্টির কাজে আত্মবলিদান দিতেও রাজি বলে ভাইরাল করছে। কয়েকজন যুবক মিলে গুণ্ডাগিরি করার পরকল্পনাও করছে। বক্তব্যতে অশালীন ভাষা ব্যাবহার করে চলেছে। মানুষের মনে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে।

যুব কমিটির নেতা হয়ে মাস্তানের মত রুপ নিয়েছে। তাঁকে ঠেকায় কে। নয়নাদের বাড়িতে আসছে নয়না এবং রিনা।এমন সময় দেখা নাহিদের সঙ্গে। আরে তোমরা। কি ব্যাপার কোথায় চললে। কথা বলা ঠিক নয় তোমাকে। কেন। আমি কি দোষ করেছি। দোষ নেই। একবারও কি আমার খোঁজ নিয়েছো। মাথা চুলকায় আর বলে ইয়ে মানে। বাবার নির্বাচনের জন্য কাজ করতে হচ্ছে না। মিটিং মিছিল ইত্যাদি আমাকেও করতে হচ্ছে তো। তাই। ওহ। তাই বলে কি আমার কথা ভুলে মেরে দেবে। শশুরের বিপক্ষে নির্বাচন করছ। লজ্জা লাগছে না। লজ্জা আবার কি। শশুরের বুথ আলাদা। শশুরের সঙ্গে আমাদের কোনো রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই। বা তোমার বাবা কে যথেষ্ট ভালোবাসি। সন্মান করি। সে তো অবশ্যই। আমি তা নিয়ে তোমায় কিছু বলেছি। তা বলোনি অবশ্য। চল না আগামীকাল বেড়াতে যাই। কোথায়। যাব। আরে যাবে তো কোথায় বলবে না। আ: আ: আ: স্বপ্না পার্কে। দিয়ে কি করবে ওখানে। সে দেখা যাবে। যাবে তো। নয়নাও যাবে। তাই নাকি। হ্যাঁ। ঠিক আছে আজ।সঁঁন্ধা বেলায় জানাব। আমি চলি ভোলার দোকানে মিষ্টির টাকা দিয়ে আসি। সিয়র জানাবে। জানাব। এখন চলি।

১৮

আজ সোশ্যালিস্ট পার্টির নমিনেশন ফাইল বা মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার দিন। কাগজ পত্র ও পার্টির কিছু কাজ ছিল। সেগুলি সমাপ্ত করা হয়েছে। এবার বিডিও অফিসে গিয়ে জমা দেওয়ার সময়। তাই পার্টির কর্মী ও সমর্থক নিয়ে উপস্থিত ইলেকশন অফিসারের অফিসে। অনেকজন জমা দিচ্ছে। আর কয়েকজনের পরেই লাইন পড়বে তাঁর। সময় যায়। অনেকক্ষন ধরেই লাইনে আছে।একজনের হচ্ছে। এরপর তাঁর হবে। আগের পার্থীর জমা দেওয়া শেষ। লাইন পড়ল। কাগজপত্র গুলি দেওয়া হল নির্বাচন আধিকারিক কে। আধিকারিক ভেরিফাই করছে। খুঁটিয়ে দেখছে কাগজ পত্র। আধিকারিক জিজ্ঞেস করলেন, মশাই আপনার নাম কি?। আজ্ঞে আমার নাম করিম শেখ। এখানে তো দেখছি আপনার নতুন দল। আজ্ঞে হ্যাঁ। ঠিক আছে। আপনার বুথ দুই নম্বর। পার্থী নম্বর দুই। মার্কা হচ্ছে পাখা। এই নিন রেজিষ্ট্রেশন কার্ডের শ্লিপ। এগারো নম্বর রুমে গিয়ে সই করে স্ট্যাম্প নেবেন। প্রধান আধিকারিকের কাছ থেকে। ধন্যবাদ স্যার। করিম ও তাঁর সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে প্রধান আধিকারিকের রুমে প্রবেশ করতেই। নিষেধাজ্ঞা জারি। কেবলমাত্র পার্থী ও দলীয় নেতা আসবেন। যেহেতু করিম দলীয় নেতা ও পার্থী নিজে। তাই একাই গেলেন। রেজিষ্ট্রেশন দেখাতেই সই করলেন আধিকারিক। এবং করিম কে একটা কাগজ দিলো।

সেখানে অনেক জায়গায় টিক দেওয়া আছে। সেখানে সেখানে সই করে দিলেন করিম অর্থাৎ পাখা মার্কার পার্থী। এই প্রথম তিনি রাজনৈতিক দলের পার্থী। মহা ধুমধামের সহিত মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়া হয়ে গেলো। এবং নির্বাচনী পক্রিয়া কাজ কর্ম সুস্থভাবে পরিচালনার জন্য দলের প্রতি বিশেষ ভাষণ দেয় করিম। করিম আজ খোলামেলা ভাষণ দিলেন। এইভাবে কথা বলার অধিকার গ্রামে মাতব্বরদেরই ছিল। আজ নতুন মুখ। তবে একটিবারের জন্যও বিরোধীদের সমালোচনা করেন নি। তিনি বারবার মানুষ বুঝিয়েছেন নিজস্ব দায়িত্ব ও উন্নয়ন। গ্রামের নিরক্ষর মানুষগুলি এভাবে কোনোদিন ভালো বক্তব্য শোনেনি। বরাবর সাম্প্রদায়িক ও দলীয় হিংসার কথা ও উস্কানীমূলক বক্তব্য রেখে জনগন কে ভোটে মন ঘুরিয়েছে। বিশ্বাস করছে এবার নতুন মুখগুলিকে। পাল্টা বিরোধীরা সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও হিংসা ছড়িয়ে নির্বাচনী বক্তব্য করছেন। উস্কে দিচ্ছেন মানুষকে। হতাস হয়ে আছে করিমের বিরোধী দলগুলি। সভায় অল্প কিছু লোক। ভয় খাচ্ছে রমজান মাতব্বরও। কেন না। তাঁর কথা এখন গ্রামের মানুষ শুনছে না। কত ধোকা দিয়েছে তা বুঝতে পারছে গ্রামের মানুষ।

চলবে…..

এন.কে.মণ্ডল

Loading...

চাক‌রির খবর

ভ্রমণ

হেঁসেল

জানা অজানা

সাহিত্য / কবিতা

সম্পাদকীয়


ফেসবুক আপডেট