দুদিনের জন্য পুরুলিয়া


রবিবার,২৯/১১/২০২০
709

হিমিকা সিনহা চৌধুরী : দীর্ঘদিনের lockdown এর পর গৃহবন্দি একঘেয়ে জীবন থেকে একটু সবুজ প্রকৃতির মধ্যে মুক্তি পেতে হঠাৎ plan হলো দুদিনের জন্য পুরুলিয়া গেলে কেমন হয়। পুরুলিয়ার বেশি খানিকটা অংশই ছোটনাগপুর মালভূমির অন্তর্গত , তাই চারিদিকে পাহাড়, ঝর্না, জঙ্গল, নদী আর মনোরম পাহাড়ি পরিবেশ ঘেরা এক অপূর্ব জায়গা এই জেলা।

যেমন ভাবনা তেমনি কাজ। Book করা হলো একটি Tata Sumo গাড়ি আর থাকার জন্য ঠিক হলো Matha Forest Resort। ইচ্ছা আছে কোনো একদিন উচুঁ পাহাড় ঘেরা কোনো এক উপত্যকায় Tent এ রাত কাটাব। তাই দুধের সাধ ঘোলে মেটাতে আর ইঁটের চার দেওয়ালের boredom কাটাতে এই resort টি কেই বেছে নিলুম। ঠিক বাঘমুন্ডি পাহাড়ের কোলে জঙ্গলের মধ্যে এই অপূর্ব Resort। রাতের বেলা হাতির ডাক, ঝিঁ ঝিঁ পোকার শব্দ আর তার সাথে মিষ্টি ঠান্ডা হাওয়ায় tent দোলা দুটো রাত ভোলার মতো নয়। মাত্র একটি দিন ছিল আমাদের ঘোড়ার জন্য তাই সকাল সকাল breakfast করেই বেরিয়ে পড়লাম অযোধ্যা পাহাড়ের দিকে।

ছবি – হিমিকা সিনহা চৌধুরী

প্রথমেই দেখলাম Lower Dam । বামনিঝোরাকে বাঁধ দিয়েই তৈরি হয়েছে এই ড্যাম। উঁচু পাহাড় থেকে নিচে চোখ যেতেই দেখি একদিকে আকাশের মতো নীল জল অন্য দিকে রাস্তা।

আরও একটু উপরে উঠে পৌঁছলাম Upper Dam এ। প্রায় দেড় কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই ড্যামের জলের রংও আকাশের মতোই উজ্জ্বল নীল। তারপর আরো উপরে গেলাম ময়ূর পাহাড় দেখতে। অযোধ্যা পাহাড়ের সবচেয়ে উঁচু টিলা এটি। এখানে পাহাড় থেকে নিচের ছবির মত সুন্দর সাজানো গ্রাম আর সবুজ কে উপভোগ করে আমরা বামনি Falls এর দিকে রওনা হলাম । সেখানে প্রায় তিন ধাপে উপর থেকে খাঁড়া পাথরের খাঁজ বেয়ে পাহাড়ের শরীর কেটে ঝাঁপিয়ে পড়েছে অশান্ত বামনি। তারপর Lunch করে, গ্রামের মধ্যে দিয়ে গাড়ি ছুটিয়ে গেলাম টুর্গা Dam।

ছবি – হিমিকা সিনহা চৌধুরী

এর পর গাড়ি থামল একটা ছোটোখাটো গ্রামের মাঝখানে। নাম চড়িদা। মাঝখানে সরু রাস্তা আর দুই পাশে ছোটছোট দোকানে থরে থরে সাজানো নানা বেশের মুখোশ। কাগজের মণ্ড, বিভিন্ন রং আর আঠা দিয়ে রংবেরঙের মুখোশ বানাচ্ছেন কারিগররা। পুরুলিয়ার জনপ্রিয় ছৌ-নাচের মুখোশের পাশাপাশি রয়েছে কথাকলি ঢঙের নর্তকের মুখ, দু্র্গা, অসুর, গণেশ, আবার রয়েছে সাঁওতাল বর-বউয়ের আদলও। এখানে অনেকটা সময় কাটিয়ে গেলাম খয়রাবেড়া হ্রদ। একদিকে সূর্যাস্ত অন্যদিকে পাহাড় ঘেরা হ্রদে নরম কমলা সূর্যাস্তের আলো। হ্রদের সামনে দাঁড়িয়ে অদ্ভুত একটা অনুভূতি হচ্ছিলো। এই মনোময় পরিবেশ ফেলে resort ফিরে যেতে কিছুতেই ইচ্ছা করছিলো না।

ছবি – হিমিকা সিনহা চৌধুরী

যাইহোক সন্ধ্যে ঝুপ করে নামতেই ফিরে এলাম সেই সুন্দর resort এ শেষ রাত টুকু উপভোগ করার জন্য। কারণ পরের দিন ই আবার ফেরার পালা।
যাইহোক পুরুলিয়ার trip এর কিছু মুহূর্ত share করলাম নিচে। আশা করি সবারির ভালো লাগবে।

Loading...

চাক‌রির খবর

ভ্রমণ

হেঁসেল

    জানা অজানা

    সাহিত্য / কবিতা

    সম্পাদকীয়


    ফেসবুক আপডেট