বদলেছে জঙ্গলমহল, বদলেছে জীবনের মানে


রবিবার,২১/০৩/২০২১
870

শাল-পিয়াল-মহুয়ায় ঘেরা জঙ্গল। ধূ ধূ প্রান্তর। রুক্ষ মাটির মায়াবী আবেশ। এরই মাঝে প্রাণের ছোঁওয়া। একটা সময় কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছিল সেই প্রাণ। প্রাণোচ্ছ্বাস সবুজ মন ঢাকা পড়েছিল কুয়াশায়। বুটের আওয়াজ, মুখোসের মুখ বদলে দিয়েছিল স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে। প্রভাব পড়েছিল কচি মনেও। পড়াশোনা থেকে খেলাধূলা সবই লাটে উঠেছিল। আজ বদলেছে সবকিছু। জঙ্গলমহল ফিরে পেয়েছে তার স্বাভাবিকতা। প্রকৃতি যেন হাসছে। আর সেইসঙ্গে হাসছে প্রকৃতির সন্তানেরাও।

রোজই খবরের শিরোনামে তখন জঙ্গলমহল। খুন-রক্ত-বিস্ফোরণ-হামলা – রোজনামচা হয়ে উঠেছিল। রাজ্যে তখন বামফ্রন্টের শাসন। মাও দমনে ব্যর্থ প্রশাসন। সাধারণ মানুষের জীবনে আতঙ্কের দিবারাত্রি। বেলা ডোবার আগেই ঘরে ফেরার তাড়া।
২০১১-য় রাজ্যে পালাবদলের পর ছবিটা পাল্টে গেল। মাও সন্ত্রাস প্রতিহত করে এলাকায় শান্তি ফেরাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকার। উন্নয়ন পৌঁছে দিল সরল মানুষগুলোর দুয়ারে।

সেই জঙ্গলমহল এখন কেমন আছে। কি বলছেন সেখানকার মানুষ? স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় কতটা পরিবর্তন এসেছে? জোর করে চাপিয়ে দেওয়া খবর নয়, রুক্ষ মাটি থেকে সত্য খবর তুলে ধরতে পৌঁছে গিয়েছিল বাংলা জাগো টিম। ঝালদা শহর ছাড়িয় ঝালিদা রেল ক্রশিং পেড়িয়ে ছুটছে গাড়ি। সুবিস্তৃত শাল গার্ডেন। বিকেলের রৌদ্র ঢাকা পড়েছে জঙ্গল ঘেরা রাস্তায়। ঘন্টা দুয়েক পথ পেরোনোর পর গাড়ি থামল ছেলেদের কোলাহলে। জঙ্গলের মাঝখানে সবুজে ঘেরা স্পোর্টস গ্রাউন্ড। ব্যাট বল হাতে সৌরভ শচীন হওয়ার সে কী উদ্দীপনা। সত্যিই যেন হাসছে জঙ্গলমহল। আরও কিছুটা রাস্তা। সূর্য তখন ডোবার পালা। জঙ্গল ঘেরা রুক্ষ জমিতে শক্তি প্রদর্শন করে চলেছে ছিপছিপে ওই মেয়েটি। অদম্য সাহস, অদম্য শক্তি সঞ্চয়ের যেন কসরত চলছে।

প্রতিভার অভাব নেই। বরং অনেকের চেয়ে তারা খেলাধুলোয় বেশ কয়েক কদম এগিয়েই। উপযুক্ত সেই প্রশিক্ষণের পাঠও ধরা পড়ল বাংলা জাগোর ক্যামেরায়। নতুন খেলোয়াড় তৈরির স্বপ্ন দেখছে পুরুলিয়ার জঙ্গলমহল। শান্তির আবহে উৎসাহিত জঙ্গলমহলের নতুন প্রজন্ম।

Loading...

চাক‌রির খবর

ভ্রমণ

হেঁসেল

জানা অজানা

সাহিত্য / কবিতা

সম্পাদকীয়


ফেসবুক আপডেট