মুঙ্গের থেকে গ্রেফতার হাওড়া-সন্ত্রাসের বন্দুকবাজ


মঙ্গলবার,০৪/০৪/২০২৩
310

শিবপুরে রামনবমীর মিছিলে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দাপিয়ে বেড়িয়েছে এই যুবক। সেদিনের সেই অশান্তির ছবি এখনও দগদগে। ইট-পাটকেল, আগুন, ভাঙচুর– কিছুই বাদ যায়নি। পুলিশ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছিল। ভয়ে সিঁটিয়ে গিয়েছিল হাওড়ার ওই এলাকা। উৎসবের শোভাযাত্রায় যদি পিস্তল হাতে দুষ্কৃতীরা দাপাদাপি করে, তাহলে শান্তিপ্রিয় এলাকাবাসী তো ভয়ে সিঁটিয়ে যাবেনই। শিবপুর এখনও থমথমে। হ্যাঁ, আতঙ্কে থমথমে। তবে এরই মধ্যে গ্রেফতার করা হল অভিযুক্ত যুবককে।

আসলে, রামনবমীর মিছিলে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে যুবকের দাপিয়ে বেড়ানোর ছবি টুইটারে পোস্ট করেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সূত্রেই তল্লাশি শুরু করে হাওড়া সিটি পুলিশ। অবশেষে, মঙ্গলবার, বিহারের মুঙ্গের থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হল। পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, ওই যুবকের নাম সুমিত সাউ। বাড়ি সালকিয়ার শম্ভুনাথ লেনে। বৃহস্পতিবার রামনবমীর মিছিলে আগ্নেয়াস্ত্র সহ তার ঘুরে-বেড়ানোর ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই, বেগতিক বুঝে, মুঙ্গেরের আত্মীয়-বাড়িতে চম্পট দেয় সে। কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ তৃণমূল নেতারা তার অপকীর্তির ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করতে থাকেন। সেটাই কাল হল। ধরা পড়ল সুমিত সাউ। তার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে অস্ত্র আইনে। ঘটনার তদন্তভার নিয়েছে সিআইডি। সূত্রের খবর, সুমিত নাকি তার অপকর্মের কথা অস্বীকার করেনি।

সোমবারই পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রামনবমীর মিছিলে আগ্নেয়াস্ত্রের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। সরাসরি বিজেপির প্ররোচনাকে কাঠগড়ায় তুলেছিলেন তিনি। অভিযুক্তের সঙ্গে বিজেপি-যোগ সামনে এসেছে। বিজেপির একাধিক নেতার সঙ্গে অভিযুক্তের ছবি সামনে এসেছে। বিজেপির একাধিক কর্মসূচিতে বিজেপি নেতাদের সঙ্গে তার উপস্থিতি জানান দিচ্ছে সে সক্রিয় বিজেপির সঙ্গে যুক্ত। বিজেপির পতাকা হাতে নিয়ে ওই দুষ্কৃতিকে দেখা গেছে অনেক কর্মসূচিতে। বিজেপি এরানোর চেষ্টা করলেও ছবিগুলি জানান দিয়ে যাচ্ছে তার বিজেপি-যোগ।

শাসক-বিরোধী এই তরজার মধ্যে একটা প্রশ্ন অবশ্যই উঠবে। রামনবমীর উন্মত্ত মিছিল আয়োজনে এ রাজ্যে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখায় বিজেপিই। বাধা পেলেই কুৎসা রটানোর পথে হাঁটে তারা। কেন্দ্রের দাদাদের কাছে এই নিয়ে ভুয়ো নালিশ করতেও পিছপা হয় না। তাহলে সেই রামনবমীকে ঘিরে অশান্তি সৃষ্টিকারীর দায় তারা নেবে না কেন? হিংসার সব রকম আবহ তৈরি করে রাখা কি বিরোধীদের প্রধান কর্তব্য? আর হিংসা দমনে সর্বস্তরে উদ্যোগ নেওয়া একা প্রশাসকেরই দায়? এমন শিশুসুলভ ভূমিকা বোধহয় গেরুয়া বাহিনীকেই মানায়। রাজ্যবাসীর বৃহদংশ এমনটাই মনে করছে।

Loading...
https://www.banglaexpress.in/ Ocean code:

চাক‌রির খবর

ভ্রমণ

হেঁসেল

    জানা অজানা

    সাহিত্য / কবিতা

    সম্পাদকীয়


    ফেসবুক আপডেট