শীত পড়তেই কালিয়াগঞ্জে ডালের বড়ি তৈরীতে ব্যস্ত মহিলারা


শনিবার,১২/১২/২০১৫
432

বিকাশ সাহাঃ    উত্তর দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন গ্রামের নিজস্ব একটি করে বৈশিষ্ট্য  আছে। আর ঠিক সেই রকমই কালিয়াগঞ্জ ব্লকের ২ নম্বর ধনকৈল গ্রাম পঞ্চায়েতের অধিন  উত্তর গোবিন্দপুর গ্রামের বৈশিষ্ট্য হল ডালের বড়ি তৈরি করা। শীত পড়তেই এই গ্রামের অধিকাংশ মানুষের জীবন যাপন নির্বাহ হয় ডালের বড়ি তৈরি করে। এদিন উত্তর গোবিন্দপুর গ্রামে গিয়ে দেখা গেল অধিকাংশ বাড়ির উঠোনে বা বাড়ির সামনে পড়ে থাকা মাঠে ঐ গ্রামের মহিলারা একত্রিত হয়ে সকাল থেকেই ডালের বড়ি তৈরি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। উত্তর গোবিন্দপুর গ্রামের পঞ্চাশ বছর বয়সী শিবেন বর্মণের সাথে কথা বলে জানাযায়,  বংশ পরম্পরা ধরে এই গ্রামের মহিলারা ডালের বড়ি তৈরি করে আসছেন। শিবেন বাবু জানান সপ্তাহে ৫০ কেজি ডালের বড়ি তাঁর স্ত্রী ও বৌমারা তৈরি করে থাকেন। একই রকম ভাবে গ্রামের অন্যান্য পরিবার গুলিও প্রায় সম পরিমাণ ডালের বড়ি তৈরি করে থাকেন। তিন হাজার টাকার ডালের বড়ি তৈরি করে তা বিক্রি করলে দ্বিগুণ লাভের সম্ভাবনা থাকে। এই গ্রামেরই বয়স্কা মহিলা কানন দাস, সুষমা দাস, গীতা দাসের কথায় এই গ্রামে বিয়ে হয়ে আসার পর থেকে প্রতি বছর নিয়ম করে শীতের সময় তাঁরা ডালের বড়ি তৈরি করে আসছেন । আজও এর অন্যথা হয়না। তাঁদের হাত ধরে ছেলে বৌ ও নাত বৌরাও এই বড়ি তৈরির কাজ শিখে ফেলেছেন। ফলে বড়ি শিল্প এই গ্রামের মহিলাদের প্রধান জীবিকা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁদের আক্ষেপ সব শিল্পের জন্য সরকারের নজর থাকলেও খাবারের মানকে সুস্বাদু করার প্রধান উপকরণ বড়ি শিল্পের জন্য সরকারের কোন  চিন্তা ভাবনা নেই। তা নাহলে মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে বড়ি বানাতে হতনা। বড়ি শিল্পীরা জানান, প্রথমে জাঁতাকলে ডাল ভাঙ্গার পড়ে চার ঘণ্টা ধরে সেই ডাল জলে ভিজিয়ে রাখতে হয়।  পরবর্তীতে একটি গামলায় দুই গ্লাস জলের মধ্যে তিন মুঠ ডালের গুড়ো নিয়ে নিয়ে ভালো করে হাত দিয়ে মেখে ফেনা তুলতে হয়। এরপর শপ বা পাটি বিছিয়ে তার উপর সাদা রঙ্গের অন্য যে কোন রঙ্গের পরিষ্কার কাপড় বিছিয়ে দিতে হয়।  সেই সাদা কাপড়ের উপর একটি একটি করে বড়ি দেন গ্রামের মহিলারা। সুষমা দেবী, গীতা দেবীরা বলেন, এই বড়ি বেশ কয়েক দিন রোদে শুকিয়ে নেওয়া হয়। তারপর শুকনো ডালের বড়ি নিয়ে কালিয়াগঞ্জের ধনকৈল হাট, কুলাইতোর হাট, ঊষাহরণ হাট ও কুনোর হাটে বিক্রি করতে যাই। ডালের বড়ি বানাতে যেমন খাটনি আছে তেমনি সেই বড়ি বিক্রি করে লাভের পরিমাণটাও অনেক বেশী। নিজেদের আর্থিক সচ্ছলতা যদি থাকতো তাহলে আরও বেশী করে বড়ি বানিয়ে মুনাফার পরিমাণটাও বাড়ানো যেত। তাঁরা আক্ষেপ করে বলেন, এই বড়ি শিল্পের জন্য কালিয়াগঞ্জ ব্লক প্রশাসন  থেকে কোনও আর্থিক সহায়তা পাওয়া যাচ্ছেনা। ব্লক প্রশাসনকে বাড়বার জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। তা সত্যেও মহাজনদের কাজ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে বাপ ঠাকুরদাদের পেশাকে এখনও আমরা বাঁচিয়ে রেখেছি। যদি প্রশাসনের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পাই তাহলে আরও বেশী পরিমাণে এই সুস্বাদু ডালের বড়ি তৈরি করতে পাড়বো। যার ফলে  অধিক উপার্জন করে সচ্ছল ভাবে ছেলে, মেয়ে, নাতি, নাতনিদের নিয়ে সুখে ঘর করা যাবে। এই সকল বড়ি শিল্পীরা আর্থিক সহায়তা পেলে বেশি সংখ্যক বাঙালির নিরামিষ থেকে আমিষ রান্নায় ডালের বড়ির স্বাদ যে আলাদা মাত্রা এনে দেবে সে বিষয়ে কোণও সন্দেহ নেই।   DSCN8170

Loading...

চাক‌রির খবর

ভ্রমণ

হেঁসেল

    জানা অজানা

    সাহিত্য / কবিতা

    সম্পাদকীয়


    ফেসবুক আপডেট