ভাই ছাতু উপলক্ষে ব্যাস্ত কারিগররা


শুক্রবার,১৩/০৪/২০১৮

পিয়া গুপ্তা উত্তর দিনাজপুর:বাঙালি মানেই বারো মাসে তেরো পার্বন।আর এই তেরো পার্বনের আরেক উত্সব ভাই ছাতু।চৈত্র সংক্রান্তির শেষ দিন আপামর বাঙালি এই উত্সবে মেতে ওঠে।চৈত্র সংক্রান্তির এই উত্সবের
এই উৎসবের অন্যতম সামগ্রী হল আম ও ছাতু।

ছাতু আমাদের দেশের একটি প্রাচীন খাবার। তবে এখন এটি প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। অথচ প্রাচীনকাল থেকেই বিকেলে নাশতার জন্য মুড়ির মতো ছাতুও ছিল অত্যন্ত লোভনীয় ও জনপ্রিয় এক খাবার

চৈত্র মাসে নানা রকম চৈতালি ফসল ওঠে। এসব ফসলের মধ্যে মাষকলাই, চীনাবাদাম, যব, ভুট্টা, গম ইত্যাদি প্রধান। এসব ফসলের দানা আনুপাতিক হারে মিশিয়ে ভেজে জাঁতায় গুঁড়ো করা হয়। এর সাথে চাল ভাজাও দেয়া হয়। গুঁড়ো করা সেসব সামগ্রীকে বলা হয় ‘ছাতু’। তবে কেউ কেউ এসব দানা একসাথে না মিশিয়ে আলাদাভাবেও গুঁড়ো করে ছাতু তৈরি করেন। সে ক্ষেত্রে  উপাদানের ওপর ভিত্তি করে সেসব ছাতুর নাম দেয়া হয়। যেমন যব থেকে তৈরি করা ছাতুকে বলা হয় ‘যবের ছাতু’, চাল ভাজা থেকে তৈরি করা ছাতুকে বলে ‘চালের ছাতু’। মাষকলাই, চীনাবাদাম, যব, ভুট্টা, চাল ভাজা ইত্যাদি মিশিয়ে যে ছাতু করা হয় তাকে বলে ‘বাদাম- কালাই ছাতু’।তবে চৈত্র সংক্রান্তি বা ভাই ছাতু উপলক্ষে মূলত যব ,ছোলা কিংবা বুটের ছাতুও ব্যবহার করা হয় ।

তাই উত্তর দিনাজপুরের গ্রামে গঞ্জে ছোলা কিংবা বুটের ছাতু বানাতে ব্যস্ত বাড়ির মহিলারা।  উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জের গ্রামে গঞ্জের বহু মহিলারা তাদের যাবতীয়  সংসারের  কাজ কর্ম সেরে একটু বেশি মুনাফা লাভের আশায় চৈত্র মাসের এই দিনটিতে ছাতু বানিয়ে তা বাজারে  বিক্রি করে দুটো পয়সা রোজগার করেন।

বছরে অন্যান সময়ে বিভিন্ন সামগ্রীর জিনিস পত্র তৈরী করলেও চৈত্র সংক্রান্তি এবং ভাই ছাতু  উপলক্ষ্যে জব ও বুটের ছাতু বানাতে চরম ব্যস্ত থাকে গ্রামের মহিলারা।

এলাকার মহিলা জ্যোৎস্না সরকার ও খুদন বর্মনরা জানান তারা ধনকৈইল হাট থেকে তারা ২৬ টাকা কেজি যব ও ৫০টাকা করে বুট কিনে নিয়ে আসেন। সেগুলি বাড়িতে পরিস্কার করে বুট কে আগুনের মধ্যে বালিতে ভেজে নিয়ে গুড়া করে ছাতু তৈরী করতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে ঢেকিতে বা মেশিনেও গুড়া  করা হয়। মিলের তুলনায় ঢেকিতে গুড়া কড়া ছাতু বেশি সুস্বাদু হয়। মহিলারা জানান চৈত্র সংক্রান্তি পূজো উপলক্ষে এদিন বহু বাড়িতে ছাতুর সাথে পরিমাণমতো পানি মিশিয়ে গুড়, কলা, দুধ, আম ইত্যাদি সহযোগে পূজো দিযে খাওয়া হয় ।

এছাড়া ও কেউ কেউ মুড়ির সাথে গুড়-কলা দিয়ে মেখেও খায়। ছাতুর উপাদান যেহেতু চৈত্র মাসে ওঠে, তাই এ সময়ই সাধারণত ছাতু বেশি তৈরি করা হয়।

ছাতুকে ঘিরে প্রাচীনকালে হিন্দু সমাজে বেশ কিছু সংস্কৃতি ছিল। চৈত্র মাসের সংক্রান্তিতে বোন ছাতু মেখে একটা পারিবারিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভাইকে খাওয়াত। এ অনুষ্ঠানকে বলা হতো ‘ভাই ছাতু’। এখন ও যা রিতিমত বহু বাড়িতে পালন করা হয় । তাই আগের মতো যদিও তেমন ছাতুর বিক্রি  হয় না।তবে সামান্য রোজগারের আশায় তারা নিজেদের বাড়িতে ছাতু তৈরি করে বাজারে বিক্রি করেন।

চাক‌রির খবর

ভ্রমণ

হেঁসেল

জানা অজানা

সাহিত্য / কবিতা

সম্পাদকীয়


ফেসবুক আপডেট