অর্পিতা ভালো ফল করে চিন্তা বাড়িয়েছে হিমঘরের শ্রমিক বাবার


মঙ্গলবার,২১/০৭/২০২০
830

পশ্চিম মেদিনীপুর:- মেয়ে উচ্চ মাধ্যমিকে ভালো ফল করেছে। এই খবরে হিমঘরের শ্রমিক বাবার যতটাই আনন্দ হয়েছে ঠিক ততোটাই চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে। এর পর মেয়ের স্বপ্ন পুরন করবে কি করে এই চিন্তায় এখন মাথায় কুরে কুরে খাচ্ছে পাল দম্পতির।

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গোয়ালতোড়ের কিয়ামাচা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার উচ্চ মাধ্যমিকে কলা বিভাগে ৪৬৫ নম্বর নিয়ে সাফল্যের সঙ্গে উত্তির্ন হয়েছে গোয়ালতোড়ের জঙ্গল লাগোয়া প্রত্যন্ত এক গ্রাম বড়ো কাদড়ার অর্পিতা পাল। বাবা স্বপন পাল স্থানীয় কুশমাশুলি হিমঘরে দৈনিক দুশতো টাকার বেতনে শ্রমিকের কাজ করেন। মা কাকলি পাল সাদামাটা গৃহবধু।

স্বপন বাবু আর কাকলী দেবীর এক ছেলে এক মেয়ে। আর্থিক অনটনের কারনে বছর দুয়েক আগে ছেলে গোয়ালতোড় কলেজে ভর্তি পড়াশুনো ছেড়ে দেয়। পরে সেও বাবার মতোই জন মজুরীর কাজ শুরু করে সংসারের ভার কিছুটা লাঘব করার জন্য৷ কিন্তু ওই সামান্য রোজগারে চার জনের সংসার সামলে মেয়ে অর্পিতা কে ভালো ভাবে পড়ানো খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ে তাদের। কিন্তু মাধ্যমিকে ভালো ফল করার জন্য অর্পিতা সরকারি বৃত্তি পায়৷ সেই বৃত্তির টাকায় নিজের পড়াশুনোর খরচ জুগিয়ে নেয়। তখনই সে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশুনো করলে বৃত্তির এই টাকায় চালানো যাবে না৷ তাই মেধা থাকলেও পরিস্থিতির চাপে পড়ে কলা বিভাগে ভর্তি হয়। সেই অর্পিতাই এবার কিয়ামাচা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪৬৫ নম্বর পেয়ে যুগ্মভাবে বিদ্যালয়ের প্রথম হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অর্পিতার বক্তব্য, ” স্বপ্ন যদি এই অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে পড়াশুনো চালিয়ে যেতে পারি তাহলে বড়ো হয়ে নার্স হওয়ার ইচ্ছে রয়েছে। আর অর্পিতার বাবা স্বপন বাবু বলেন, ” মেয়ের এই ভালো ফল খুশীর থেকে চিন্তা বাড়িয়েছে আমাদের। দুশতো টাকার রোজগারে কিভাবে তার স্বপ্ন পুরন করবো? তবে মেয়ের স্বপ্ন পুরনের জন্য কোনো ত্রুটি রাখবো না। প্রয়োজনে ওভার ডিউটি করে তাকে পড়াবো৷ “

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনুপ কুমার পড়িয়া জানান, এই অর্থনৈতিক অবস্থার কারনে অর্পিতা বিজ্ঞান বিভাগ ছেড়ে কলা বিভাগে ভর্তি হয়। ছোটো থেকেই মেধাবী ও বিনয়ী৷ অর্পিতার এই আর্থিক অনটনের কারনে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে যতোটা সাহায্য করা যায় করা হয়েছে। অর্পিতার এই সাফল্যে আমরা গর্বিত।

Loading...

চাক‌রির খবর

ভ্রমণ

হেঁসেল

    জানা অজানা

    সাহিত্য / কবিতা

    সম্পাদকীয়


    ফেসবুক আপডেট