অপর্ণা (প্রথম পর্ব)


শুক্রবার,১১/১২/২০২০
3275

অপর্ণা (প্রথম পর্ব)
সৌরভ হালদার

সৌরভের সাথে আজ চার বছর রিলেশন। সামনের সপ্তাহে রবিবারের সকাল ১১ টা বেজে ২৩ মিনিটে চারবছর পূর্ন হবে। সৌরভের প্রপোজ করার থেকে আজ পর্যন্ত সব কথা গুলো এই ডাইরেতে লিপিবদ্ধ আছে। কাজের ফাঁকে যখন আমি লাইব্রেরী তে এসে সবাইকে লুকিয়ে ডাইরির প্রথম পাতা উল্টে দেখি প্রথমে চোখে পড়ে লাল গোলাপের শুকিয়ে যাওয়া পাপড়ি।আর ছোট ছোট গল্প আর সময়ে অসময়ে কফি খাওয়ার আওয়াজ। আর কানে বাজে সেদিনের কথা গুলো।

সৌরভ আর আমি হাঁটছি হঠাৎ করে ও আমার হাত ধরে হাঁটতে শুরু করল।আজ আমার লজ্জা লাগে না কারণ আমাদের দুজনের দুইটি হাত ধরে হাঁটার অভ্যাস টা অনেক দিনের পুরনো। সামনে দুই পাশে শিরিস গাছ কখনো কখনো আবার বাউলা গাছ পিচির রাস্তা, মাঝে মধ্যে পাশ দিয়ে চলেছে বাস,ট্রাক , ইজিবাইক ও মোটরবাইক।
এমন এক সময় সৌরভ বলল অপর্ণা ;
আমি বললাম হু
সৌরভ বলল
তুমি কখনো কি দেখেছো ? সূর্য অস্ত যাওয়ার পূর্বে,যেরকমটা লাল হয়ে যায় ঠিক তোমাকে সেরকম লাগছে।
আমি বললাম;
ধূর তোমার সবকিছুতেই বেশি বেশি। মানুষের মুখ কখনো লাল হয়।
সৌরভ বলছে
আরে হয় বাবা হয়
চলো সামনে বটগাছ, তার পাশে গিয়ে বসি। হাঁটতে হাঁটতে তো বহুদূর চলে এলাম,
বহুদূর চলে আসছি জীবনের পথে। এগিয়ে নিয়ে গেছি গুটি গুটি পায়ে চারটি বছর। তুমি কি বলেছ বাড়িতে আমাদের বিয়ের কথা।
আমি বললাম
না এখনো বলা হয়ে ওঠেনি বলার সাহসটা পেলাম কোথায়,আজকাল মানুষের সুখ থেকে বেশি বোঝে সুবিধাটা ।বললেই তো বলবে ছেলে কি করে? ছেলের বংশ পরিচয় কি?
সৌরভ বলল,
আসলে তোমাকে আমি কিছু বলতে পারি না ।তোমাকে বুঝে ওঠার আগেই তুমি আমার মনকে এমন ভাবে আঁকড়ে ধরে বসে থাকো ,যেন সীমানাহীন সেই বাতাস আজও যেন দাঁড়িয়ে আছে। শুধু দাঁড়িয়ে আছে তোমারি প্রতীক্ষায়।

আমি সৌরভের দিকে তাকিয়ে বললাম
তোমার দুটি হাত ধরে এই মেটো পথে হাঁটতে হাঁটতে তোমার মুখের দিকে যখন তাকাই , তখন তোমাকে ছাড়তে ইচ্ছে করে না। মনে হয় ,হেঁটে চলা পথ, তোমার কথা, তোমার দিকে তাকানো সবকিছুই যেন আমাকে দিয়ে দাও সম্পূর্ণরূপে সবসময়।

সৌরভ তুমি আগে সিনেমা যে দেখেছ
সৌরভ বলল, কি বলতো?
সিনেমাতে যখন বলতে ” তোমাকে ছাড়া আমি একদিনও থাকতে পারব না” তখন এই ডায়লগ টার মানে আমি বুঝতে পারতাম না ।কেন একজনকে ছেড়ে অন্য জন বাঁচতে পারবে না।
হাস্যকর!
পারে আমি গত চার বছরে সেটা খুব ভালো করেই বুঝে পেরেছি কথাটির অর্থ পূর্ণকতটুকু।

সৌরভের হাতে হাত রেখে বললাম,
তোমার ঘড়ির কাটাটা একটু বেশি চলছে আজ!
সৌরভ বলল
কেন বলতো?
আমি বললাম
সকালে আসলাম এর ভিতরে দেখো ৩ টা বেজে গেছে মানে,বিকাল হতে চলেছে ।আমার কিন্তু মনে হচ্ছে আমি একটু আগেই এসেছি।
সৌরভ বলল
আরে পাগলি,
ইউনিভার্সিটি তে বাংলা ক্লাস ফাঁকি দিয়ে সারাটা দিন তো তোমার সাথেই কাটিয়েছি।আর তোমার রঞ্জন স্যারের ইংরেজি ক্লাস টা কিন্তু মিস করেছ ।
বাড়িতে গিয়ে কি?
বলতে হবে তো মিথ্যা কথা,
আমি বললাম,
ও ঠিক বুঝিয়ে নেবো তোমার জন্য হাজারটা মিথ্যা কথা বলতেও রাজি।

হঠাৎ করে সৌরভ বলে উঠলো
একটু দাড়াও,
আমি বললাম
কেন
সৌরভ বলছে
নাড়ো না, দেখো তোমার চুলে খোঁপায় একটা প্রজাপতি বসে আছে এই তো কেবল এসে বসে পরলো, কি সুন্দর প্রজাপতিটা।

Loading...

চাক‌রির খবর

ভ্রমণ

হেঁসেল

জানা অজানা

সাহিত্য / কবিতা

সম্পাদকীয়


ফেসবুক আপডেট