শক্তিগড়: অপরূপ সাজে সেজে উঠেছে স্টেশন চত্বর


বুধবার,০৫/০৫/২০২১
913

অপরূপ সাজে সেজে উঠেছে স্টেশন চত্বর, শৈল্পিক কলাকুশলীতে শক্তিগড় স্টেশন যেন এক রঙের দুনিয়া। সংস্কারের পর নতুন কলেবরে আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে স্টেশন ভবন। প্ল্যাটফর্মের ওভারব্রিজে উঠতেই আপনার চোখে পড়বে ময়ূরের পেখম আর গাছ, যা চিত্রায়িত করা হয়েছে ওভারব্রিজের সম্পূর্ণ সিঁড়ি জুড়ে।

ছিমছাম, ঝকঝকে, সুন্দর এক রেল স্টেশন শক্তিগড়। স্টেশন এলাকার দুপাশে তাকালে পাওয়া যায় অপার সবুজের মায়াবী হাতছানি। কয়েক কিলোমিটার এগিয়ে গেলে পাওয়া যায় দামোদর নদের উত্তাল বাতাস আর একান্তে অবসর কাটানোর কিছু অদ্ভুত সময়। স্টেশনে বসে ঝমঝম শব্দে চমকে উঠে তাকিয়ে দেখবেন ছুটে চলেছে কোনো এক্সপ্রেস ট্রেন বা মালগাড়ি অথবা লোকাল ট্রেন। হাওড়া-বর্ধমান মেইন ও কর্ড লাইনের মিলনস্থল বলে এই স্টেশনের ওপর দিয়ে ছুটে চলা ট্রেনের সংখ্যাও অনেক বেশি। হাওড়া-বর্ধমান মেইন লাইনে ৯৬ কি.মি. এবং হাওড়া-বর্ধমান কর্ড লাইনে ৮৩ কি.মি. দূরে, পূর্ব রেলের হাওড়া বিভাগের অন্তর্গত এটি একটি ব্যস্ত রেলওয়ে স্টেশন।

যাত্রীসাধারণের চাহিদা পূরণে এই স্টেশনে বসার জায়গা, প্ল্যাটফর্ম শেড, ওয়েটিং হল, ফুট ওভারব্রিজ, পানীয় জল, ইত্যাদি প্রায় সব বন্দোবস্তই রয়েছে। সংরক্ষিত এবং অসংরক্ষিত দু’রকম টিকিট কাটার সুবিধাও এখানে আছে। এই স্টেশনটির ওপর শক্তিগড় এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষ সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। আপ ও ডাউন লাইনে হাওড়া-বর্ধমান লোকাল এবং বর্ধমান-ব্যান্ডেল লোকালের অনেকগুলি ট্রেনই এই স্টেশনে থামে।

শক্তিগড় রেল স্টেশন থেকে নেমে যাওয়া যায় বড়শুল। এটি একটি প্রাচীন গ্রাম। পাশেই রয়েছে দামোদর নদ, যা স্টেশন থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে। স্টেশন থেকে মনোমোহন দে রোড ধরে যাওয়া যায় বড়শুল। বড়শুলে আছে বেশ কিছু দ্রষ্টব্য স্থান। উল্লেখযোগ্য হলো প্রাচীন জমিদার বাড়ি, দামোদর নদ ও তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, দত্ত দালান যা মনসামঙ্গল কাব্যের কানা হরি দত্তের বাড়ি হিসেবে পরিচিত। বড়শুল হাটতলার কাছে পীরের দরবার, সায়রের শিবমন্দির ও পার্শ্ববর্তী তাঁতখন্ডে আছে নীলকুঠীর ধ্বংসাবশেষ। বড়শুল জমিদার বাড়িতে রয়েছে একটি সংগ্রহশালা, যেখানে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দলিল ছাড়াও রয়েছে আরও প্রাচীন দ্রষ্টব্য। শক্তিগড় স্টেশনের উত্তরে গেলে পাওয়া যাবে বাঁকা নদী। তারপর আটাগড়, হাটগোবিন্দপুর গ্রাম। এছাড়াও এখানে রয়েছে কালীবাড়ি এবং তার লাগোয়া শিবমন্দির যা ভক্তদের কাছে অত্যন্ত জাগ্রত বলে পরিচিত।

পূর্ব বর্ধমান জেলার এই জায়গাটির সঙ্গে পরতে পরতে বাঁধা রয়েছে এক মিষ্টি ইতিহাস, অনেক স্মৃতি, আঁকড়ে রয়েছে অর্থনীতির এক বিশাল দিক। বর্ধমানের কথা মনে পড়লেই মিষ্টি হিসাবে ‌যেমন সীতাভোগ বা মিহিদানার কথা মনে আসে তেমনই এক লহমায় মনে পড়ে শক্তিগড়ের ল্যাংচা। কলকাতা- দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে ধরে গেলে চোখে পড়বে এই ল্যাংচার বিখ্যাত দোকানগুলি। শক্তিগড় স্টেশন থেকে বাইপাসের ধারে এই আমড়া এলাকা ‌যেন স্টপ পয়েন্ট। এমন কোনও গাড়ি নেই ‌যে এখানে দাঁড়ায় না ! এখানকার দামোদর নদ, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, প্রাচীন মন্দির ও বিধান চন্দ্র রায়ের স্বপ্নের উন্নয়নীর টানে কত মানুষ এখানে আসেন সেসব কথা ধারণাতীত। এছাড়াও শক্তিগড় স্টেশন থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে দামোদর নদের পাশে শীতকালে ভ্রমণে যোগ হয় এক বাড়তি মাত্রা। দল বেঁধে বনভোজনে ব্যস্ত থাকেন নানা এলাকার মানুষ।

Source : https://www.facebook.com/easternrailwayheadquarter

Loading...

চাক‌রির খবর

ভ্রমণ

হেঁসেল

    জানা অজানা

    সাহিত্য / কবিতা

    সম্পাদকীয়


    ফেসবুক আপডেট